Loading...
The Financial Express

রিডার্স ব্লকের ফাঁদে পাঠকের মৃত্যু?

| Updated: April 11, 2021 17:45:10


রিডার্স ব্লকের ফাঁদে পাঠকের মৃত্যু?

রিডার্স ব্লক সব বয়সী পাঠকদের কাছে পরিচিত একটি শব্দ। রিডার্স ব্লকের অর্থ হচ্ছে, পড়ার অভ্যাস থাকলেও আপাতত তাতে সংগতি খুঁজে না পাওয়া। এই সমস্যায় পড়লে আপনার এও মনে হতে পারে, আপনার কাছে মজাদার কিছু পড়ার জন্য নেই।

বিষয়গতভাবে, রিডার্স ব্লকে ভুগতেই পারে যে কেউ। খুব মজার কোনো বই পড়ার পর সেই সমান আগ্রহ নিয়ে অন্য কোনো বই হয়তো খোঁজেন, কিন্তু অবিকল সেই স্বাদ পাওয়া হয় না। প্রতিটি বইয়ের নিজস্বতা থাকার কারণে হয় এমনটা। তবে এটাও একজন পাঠক হিসেবে আপনার জন্য ফলদায়ক হতে পারে, যদি আপনি জানেন, আপনি কী করবেন।

কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমে রিডার্স ব্লকের সময়টা কাটিয়ে পাঠাভ্যাস পুনরায় উজ্জীবিত করতে পারা যায়।

বদলে ফেলুন একই ধাঁচের বই পড়ার অভ্যাস

আপনার পাঠাভ্যাস পাল্টানোর মোক্ষম সময় হচ্ছে রিডার্স ব্লক। একাধারে উপন্যাস পড়লে একঘেয়েমি আসবে। অনুরূপভাবে, একই লেখক বা একই ঘরানার লেখকের বই পড়তে থাকলে নীরস লাগতে পারে। সে কারণে পাঠক ভিন্ন ধরনের বই পড়তে পারেন। তবে এমনও হতে পারে যে, এরপরও কিছুই মনে লাগছে না। সে ক্ষেত্রে সময় নিন, মন সতেজ রাখুন এবং অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করুন, যেগুলো আপনার ভেতরকার পাঠককে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।

গৎবাঁধা পাঠ্যতালিকা থেকে বিদায় নিন। নিজের পছন্দগুলো আরও ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন। কিছুটা সময় হাতে নিয়ে ভালো করে দেখুন, কোন বই পড়ে আপনি আগ্রহ বোধ করেছিলেন। সেভাবে বেছে ভিন্ন শ্রেণির কোনো বই বাছুন, যা আপনার গতানুগতিক ধারার একটু বাইরে।

জোর করে পড়বেন না

বইয়ের সফট কপি পড়তে পড়তে এমন হতে পারে, কম্পিউটার বা মুঠোফোনে পড়তে ভালোই লাগছে না আপনার। উল্টোটাও ঘটতে পারে। হয়তো আপনি মলাটে বাঁধানো বই টানা পড়তে পড়তে উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেছেন। তখন যদি জোর করে পড়তে বসেন, তাহলে আরও দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আর এভাবেই আপনার পড়ুয়া স্বভাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিজের স্বভাবটার ক্ষতি না করে বরং কিছুদিনের জন্য বিরতি নিন।

আগে যে বইগুলো পড়েছেন, সেগুলোর ব্যাপারে বাকি পাঠকদের মতামত দেখতে পারেন বা তা নিয়ে নিজের চিন্তার খোরাক জোগাতে পারেন। তখন নিজস্ব পছন্দের ব্যাপারে আপনার ধারণা তৈরি হবে। অনেকে জোরবশত পড়াকে চালিয়ে যেতে চান। এতে নিয়মিত হওয়ার থেকে বরং পড়ার আগ্রহ নষ্ট হওয়ারও সুযোগ থাকে।

পরামর্শ নিন

পড়ার গতি শূন্য থেকে স্বাভাবিক করতে আপনার পরিচিত আশপাশের পড়ুয়া কাউকে খুঁজে তার থেকে সময়োপযোগী বইয়ের ব্যাপারে ধারণা নিন। যারা নিয়মিত বই পড়েন, তারা আপনাকে নতুনভাবে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, সবচেয়ে ভালো বইটা বেছে নিতে মরিয়া হয়ে উঠি আমরা। কিন্তু এই কঠিন চেষ্টায় আগ না বাড়ানোই ভালো।

নিজের হাতের কাছে থাকা বইগুলোকে প্রাধান্য দিন। কিছুটা বিরতি দিয়ে আবারও পড়ুন এবং বই শেষ করে ফেলুন। অনেক বেছে বই পড়লে খুব ভালো পাঠ্যলিপি হয়তো তৈরি হবে, কিন্তু আপনি এড়িয়ে যাবেন অনেক অজানা কিছু। একটা নির্দিষ্ট ধরনের বই পড়া শেষ করে পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী বই পড়লে আপনি নির্দিষ্ট সেই ধরনটির প্রতি জানার জন্য আরও আগ্রহী হবেন।

পুরোনো কিছু পড়ুন

অনেক আগে পড়ে ফেলা বইগুলো খুঁজে বের করে গুছিয়ে নিন। তারপর নিজের পছন্দমতো কোনো বই শুরু করুন। অথবা নিজের বা অন্য কারও পুরোনো চিঠি পড়ে দেখুন। আপনার ডায়েরি থাকলে সেই ডায়েরির লেখা পড়ুন। অজান্তেই খুব প্রিয় বই উঠে আসতে পারে আপনার নাগালে। এমনও হতে পারে ছোটবেলায় উপহার হিসেবে পাওয়া বই আবারও পড়ে দেখলেন। এই পরিবর্তন মন সতেজ রাখতে সহায়ক হবে।

নতুন করে শুরু করুন

পড়ার জন্য কিছু পাচ্ছেন না? তাহলে কি সত্যিই সব বই শেষ হয়ে এল? না, শেষ হয়নি, বরং এটাই শুরু। শুরুটা করুন অন্য ধরনের কিছু দিয়ে। জটিল তত্ত্ব সম্পর্কিত বই পড়া শেষ হলে ফটো স্টোরি পড়ুন। সংগৃহীত ছবির বর্ণনা আকারে রাখা বই পড়তে পারেন। কিছু পড়ে শেষ করা হলে টুকে রাখুন। নিজের মতো করে পড়ে ফেলা বইয়ের ব্যাপারে কী ভালো লাগেনি বা কী মজাদার লেগেছে, সেটা পরে অবসর সময়ে কোনো ডায়েরিতে তুলে রাখুন। হয়তো পরবর্তী রিডার্স ব্লকের সময়টায় সাহায্য করবে এই টুকে রাখা পছন্দ-অপছন্দের খুঁটিনাটি!

নিয়মিত পাঠক হোন

একটা নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন। অনেকে সপ্তাহান্তে লম্বা একটা রুটিন তৈরি করেন। সেভাবে তৈরি করতে পারেন অথবা ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে বই পড়া যেতে পারে। আপনার যখনই আগ্রহ তৈরি হবে, পছন্দ হওয়া বই কিনে ফেলবেন। সেটি সম্ভব না হলে ই-বুক পড়তে পারেন। একান্তই যদি কিছু না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি ভেবে দেখুন, শেষ কোন বিষয়টা নিয়ে গভীর কোনো আলাপ হয়েছিল; কোন বিষয়টি সম্পর্কে জানবার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। আর এভাবেই জিজ্ঞাসার সূত্র ধরে এগিয়ে যান ও বই পড়তে থাকুন। বইপাঠ সুখকর হোক!

 

সোফিয়া নুর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। ই–মেইল—[email protected] com

Share if you like

Filter By Topic

-->