Bangla
a year ago

বিদ্যুৎ শুল্ক বৃদ্ধি ও ভর্তুকি হ্রাসের শর্তে আইএমএফ-এর ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রকাশিত হয়েছে :

সংশোধিত :

বাংলাদেশকে ৩.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ দিতে আইএমএফ বিদ্যুৎ খাতে শুল্ক বৃদ্ধির শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যাতে দেশটি ভর্তুকিমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে, এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  

গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের (এমওএফ) সঙ্গে এক বৈঠকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি ভর্তুকি কমানোর প্রস্তাব দেয়, যাতে দেশটি স্বনির্ভর হতে পারে।  

আইএমএফের তৃতীয় পর্যালোচনা মিশন ইতোমধ্যেই ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুমোদিত ঋণ প্যাকেজের পাশাপাশি নতুন ৩.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। 

এই আইএমএফ মিশনের প্রধান কাজ হল ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুমোদিত ঋণের চতুর্থ কিস্তি ছাড়ের জন্য দেশের অগ্রগতির মূল্যায়ন করা, এবং এ বিষয়ে আলোচনা ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। 

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, "রবিবার আইএমএফ মিশন আমাদের সাথে বৈঠক করেছে। মূলত তারা জানতে চেয়েছে যে, কীভাবে আমরা একটি ভর্তুকিমুক্ত অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনা করছি। আমরা তাদের আমাদের নীতি সম্পর্কে অবহিত করেছি। এরপর মিশন আমাদেরকে বিদ্যুৎ শুল্ক বিশেষ করে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।"   

তিনি আরও বলেন, "আমরা তাদেরকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমানোর জন্য আমাদের নীতির বিষয়ে অবগত করেছি।"  

এ সময়য় তিনি যোগ করেন, আইএমএফ চায় যে সরকারী নীতির পাশাপাশি গ্রাহক বা শিল্প ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ক্রমাগত ভর্তুকি নির্ভরতা হ্রাস করে একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা হোক।  

বর্তমান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি হিসেবে সরকার প্রায় ৩৬০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছে। এর প্রায় সবটাই অতীত সরকারের চুক্তি অনুযায়ী স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) এবং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জমে থাকা পাওনা পরিশোধে ব্যয় করা হচ্ছে।  

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফ মূলত একটি ভর্তুকিমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থাপনার পথে এগোতে বাংলাদেশের পরিকল্পনা জানতে চায়।  

তিনি বলেন, "তারা (আইএমএফ) আমাদেরকে বলেছে যে, প্রস্তাবিত ৩.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন ঋণ যদি বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হয়, তবে কীভাবে দেশটি ভর্তুকিমুক্ত টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে।"  

বিপিডিবি তাদের ভাড়াভিত্তিক এবং আইপিপি কেন্দ্রগুলো থেকে  ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ক্রয় কমিয়ে আনাসহ জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনার নীতি সম্পর্কে আইএমএফকে জানায়।  

পূর্ববর্তী হাসিনা সরকার অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল, যার অধিকাংশই বিদ্যুতের দামের দিক থেকে ব্যয়বহুল, ফলে সরকারি দায়বদ্ধতা দিন দিন বেড়ে যায়।  

সাধারণত, বিপিডিবি গ্রাহকদের কাছে যে দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে, তার চেয়ে বেশি দামে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনে এবং এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়। এদিকে বেশিরভাগ আইপিপি এবং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোই হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) বা ডিজেল-চালিত, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যয়বহুল।  

বিপিডিবি সাধারণত বেসরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টা (কেডব্লিউএইচ) ১৪ থেকে ২৬ টাকা দরে বিদ্যুৎ ক্রয় করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় খুচরা মূল্য প্রতি ইউনিট ৮ দশমিক ৯৫ টাকা এবং গড় পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ দশমিক ০৪ টাকা।  

এদিকে, ২০২৩ অর্থবছরে সরকার পছন্দের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জন্য "ক্ষমতা চার্জ" বাবদ মোট ২৮০ বিলিয়ন টাকা পরিশোধ করেছে। সম্প্রতি, আইপিপি এবং ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা চার্জ পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বন্ড ইস্যু করা হয়েছে।  

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে আসন্ন সংশোধিত জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাড়ানোর, যাতে যতটা সম্ভব বেসরকারি আইপিপি এবং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ করা যায় এবং একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলা যায়।  

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার আইএমএফ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং জ্বালানি উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে ভর্তুকি এবং জ্বালানি খাতের নীতি সম্পর্কিত বিষয় এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। 

kabirhumayan10@gmail.com

শেয়ার করুন