Bangla
a year ago

বিপুল পরিমাণ আমদানির পরেও চালের দাম বেড়েছে

প্রকাশিত হয়েছে :

সংশোধিত :

বাংলাদেশে বারবার বন্যায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যে সরকার চালের ক্রয় বৃদ্ধি করায় ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে চাল আমদানি বেড়েছে। তবে এ সত্ত্বেও চালের দাম উচ্চই রয়ে গেছে।

বাজার জরিপে দেখা গেছে, আমদানির ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয়ভাবে ধান কাটার মৌসুম সত্ত্বেও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে চাল আমদানি ২,০৫১ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ২৮৬ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এক বছর আগের একই সময়ে চাল আমদানির জন্য খরচ হয়েছিল মাত্র ১৩ দশমিক ০৩ মিলিয়ন ডলার।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান, টানা তিন দফা প্রবল বন্যায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে সরকার আমদানি বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক ঊর্ধ্বতন খাদ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গত বছর তিন দফা বন্যা হয়েছিল, যা আমাদের ধান উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।" 

তিনি আরও বলেন, "খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ সংকট বা মূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে সরকার বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি করে খাদ্য মজুত শক্তিশালী করেছে।" 

২০২৪ সালের আগস্টে সবচেয়ে বিধ্বংসী বন্যাটি ঘটে, যা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলা প্লাবিত করে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষ এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ৫ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

তবে আমদানি বাড়ায় সরবরাহ বেড়ে গেলেও জানুয়ারি থেকে ঢাকায় খুচরা বাজারে চালের দাম ধরন অনুযায়ী ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সম্প্রতি, বিশেষ করে উন্নতমানের চালের দাম আরও তীব্রভাবে বেড়েছে, যার জন্য বাজারে বড় ব্যবসায়ীদের প্রভাব এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহে ব্যাঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে।

বণিকদের মতে, দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং সরকারি গুদাম থেকে ধীরগতিতে চাল ছাড়াকে দায়ী করা যায়।

এর জবাবে সরকার আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান ও চালের ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে।

তারা জানিয়েছে, আমন মৌসুমে সাধারণত কৃষকেরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য ধান সংরক্ষণ করেন, ফলে সরকারের সংগ্রহ তুলনামূলক কম হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর এবছর বোরো ধানের সংগ্রহমূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা হারে দাম নির্ধারণ করেছে, যা গতবছর ছিল ৩২ টাকা। একইভাবে, চালের ক্রয়মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ টাকা করা হয়েছে।

সরকার সাড়ে তিন লাখ টন বোরো ধান ও ১৪ লাখ টন চাল কেনার পরিকল্পনা করেছে, যার লক্ষ্য সরকারি মজুদ শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত মোট খাদ্য মজুত ছিল প্রায় ১২ লাখ টন, যার মধ্যে চাল ও গম উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। 

খোলাবাজারে বিক্রয় (ওএমএস), সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য সরকার সাধারণত কমপক্ষে ১০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখে।

অর্থনীতিবিদরা জানান, সরকারের সক্রিয় আমদানি উদ্যোগ দেশীয় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব লাঘবে সহায়ক হলেও এর বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েছে। পাশাপাশি, খুচরা বাজারে চালের উচ্চ মূল্য প্রমাণ করে যে বিতরণ ব্যবস্থায় অদক্ষতা ও মজুতদারির সমস্যা রয়েছে।

শেয়ার করুন