ঘাটতি পূরণে বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংক থেকে সরকারের ৬৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ

প্রকাশিত হয়েছে :
সংশোধিত :

ঘাটতি পূরণের জন্য চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৬৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে পরিশোধের পর নিট ঋণের পরিমাণ নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি ঋণগ্রহণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুত করা একটি গোপন প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে অর্থ মন্ত্রণালয় ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সকল তফসিলি ব্যাংক থেকে ৬৯ হাজার ৫৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোষাগারে জমা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি বাজেটের ঘাটতি পূরণের অংশ হিসেবে এই সময়কালে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।
সরকারী ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুধবার দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে (এফই) বলেন, "সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ার কারণে এই সময়কালে সরকারের ব্যাংক ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।"
অন্যদিকে, ২০২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়কালে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের জন্য ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৫ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এবং আদায় কম হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী মাসগুলোতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারি ঋণগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।
ঋণ ব্যবস্থাপনার ব্যাখ্যায় ওই কর্মকর্তা বলেন, "মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন অর্থ সরবরাহের পরিবর্তে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।"
তবে, ওয়েজ-অ্যান্ড-মিনস অগ্রিম (ডব্লিউএমএ) সুবিধার বকেয়ার পরিমাণ ৭ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং ওভারড্রাফট (ওডি) সুবিধা ছিল শূন্য।
বর্তমানে সরকার কোনো সিকিউরিটিজ ইস্যু না করেই ব্যয় নির্বাহের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ডব্লিউএমএ-র অধীনে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
এছাড়াও, ওডি সুবিধার অধীনে একই উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের অনুমতি রয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, "অন্তবর্তীকালীন সরকার শিগগির ব্যয় সংকোচন ও রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কমাতে যাচ্ছে।"
বাজেট নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ অর্থবছরের জন্য সরকারি নিট ব্যাংক ঋণ ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা থেকে বেশি।
তবে, ২০২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা থেকে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ অর্থবছরের শেষে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ছিল ৯৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।
এই ব্যবস্থার আওতায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৭২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৬৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করবে।
একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী জানান, অধিকাংশ তফসিলি ব্যাংক এখন তাদের অতিরিক্ত তহবিল সরকারী সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে, কারণ এতে ভালো রিটার্ন এবং নিরাপত্তা রয়েছে।

For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.