
প্রকাশিত হয়েছে :
সংশোধিত :

গরম যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। কর্মস্থল কিংবা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরেই আমরা ক্লান্তি দূর করার জন্য ফ্যান বা এসি ছেড়ে বসে পড়ি। তবে অনেকের কাছেই এসি এখনও এক বিলাসিতার নাম। প্রচন্ড গরমে এসি ছাড়াই বিকল্প কিছু উপায় অবলম্বন করলেই আমরা ঘরবাড়ি ঠান্ডা রাখতে পারবো।
জানালা খোলা ও বন্ধ রাখা
সকালে প্রখর রোদের সময় জানালা যতটুক সম্ভব বন্ধ রাখাই শ্রেয়। গ্রীষ্মের সময় সূর্যের আলো যে সরাসরি ঘরে প্রবেশ করে ঘর গরম করে এটি তা কমিয়ে দিবে।
সূর্যাস্তের পর যখন বাহিরে কিছুটা ঠান্ডা হবে তখন জানালাগুলো খুলে দিলে ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারবে। এতে করে কিছুটা হলেও শান্তি পাওয়া যাবে।
ঘরের ভিতর বাতাস ঢুকতে দেয়া
ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করতে চাইলে সর্বাধিক প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করুন। ছায়া থাকলে সেদিকের জানালা খোলা রাখা যেতে পারে। অন্যান্য ঘরগুলোতে বাইরে দিকে মুখ করে স্ট্যান্ডিং ফ্যান বা সিলিং ফ্যান চালু করে দিলে বাইরে থেকে দ্রুত ঠান্ডা বাতাস টেনে আনা সম্ভব। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ক্রস ভেন্টিলেশন যা ঘর দ্রুত ঠান্ডা করে।
বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সীমিত ব্যবহার
আমাদের ঘরে থাকা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেমন মোবাইল, চার্জার, মাইক্রোওভেন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদি থেকে প্রতিনিয়ত তাপ উৎপাদন হয়।
তাই যন্ত্র ব্যবহার করা শেষে অবশ্যই সুইচ অফ বা প্লাগ খুলে রাখবেন। এতে করে তাপ তুলনামূলক কম উৎপাদন হবে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমে আসবে।
ঘরের ভিতরে ও বাইরে গাছ লাগান
ঘর ঠান্ডা রাখার আরেকটি উপায় হলো ঘরের ভিতরে বা বাহিরে গাছ লাগানো। এতে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরের তাপমাত্রা কমাতেও সাহায্য করবে।
আপনার সুবিধার্থে আপনি যেকোনো গাছ আপনার বাড়ির খোলা জায়গায় রোপণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে মানিপ্লান্ট, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পাম, স্নেক প্ল্যান্ট, ফার্ন ইত্যাদি গাছ লাগালে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কমে আসে।
ঘরের ভিতরে ঠান্ডা বাতাস
আপনার ঘরে থাকা টেবিল ফ্যানের সামনে একটি প্লেটে অনেকগুলো বরফ রেখে ফ্যান চালু করে দিন। এতে করে এসির মতো ঠান্ডা বাতাস আসবে এবং ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাবে।
অথবা একটি বোতলে পানি ভরে সেটি ফ্রিজে রেখে দিন। বরফের মতো জমাট হয়ে যাওয়ার পর সেই বোতলটি ফ্যানের সামনে রেখে দিয়ে ফ্যান চালু করলে ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসবে।
ডিহিউমিডিফায়ার
ডিহিউমিডিফায়ার এর কাজ হলো ঘরে থাকা আদ্রতা শোষণ করে নেওয়া। এতে করে ঘরের ভিতরে থাকা আদ্রতা বের হয়ে ঘরকে অনেকটাই ঠান্ডা করে ফেলে। এয়ার কন্ডিশনার বা এসির বদলে একটি ডিহিউমিডিফায়ার কিনলে খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
ভারী সুতা এবং হালকা রঙের ব্যবহার
জানালা বা বারান্দায়ে ভারী সুতার পর্দা ব্যবহার করুন। এতে করে পর্দার কারণে ঘরে আলো প্রবেশ করতে পারবে না। বিছানার চাদর বা বালিশের কভার এর ক্ষেত্রে সুতির কাপড় ব্যবহার করুন। ভারী বা রঙিন চাদর ব্যবহার হতে বিরত থাকুন ও হালকা রঙের চাদর বেছে নিন। কেননা, গাঢ় রঙের কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে। কাজেই ভারী বা রঙিন চাদর কম ব্যবহার করাই শ্রেয়। এই উপায়গুলো অবলম্বন করলে এমন হবে না যে একেবারেই ঘর শীতকালের ঠান্ডা হয়ে যাবে তবে আপনার ঘরের তাপমাত্রা কিছু হলেও কমে আসবে। এতে বাইরে থেকে ফিরে অস্বস্তি হয়তো লাগবে না। আর ঘরে থাকলে আরামও ভালো হবে।
spurba2003@gmail.com

For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.