Bangla
2 years ago

পাকৃতিক তুলির আঁচড়ে চীনের রংধনু পাহাড়

প্রকাশিত হয়েছে :

সংশোধিত :

কখনো বৃষ্টির পর মেঘ কেটে যাওয়া আলো ঝলমলে রোদেলা আকাশে রংধনুর দেখা মিললে তার সৌন্দর্য মন কাড়ে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আকাশে রংধনুর দেখা নিয়মিত না পাওয়া গেলেও আমাদের এই পৃথিবীতেই রয়েছে এমন এক বিস্ময়কর স্থান যেখানে দেখা মিলবে প্রকৃতির নিপুণ তুলিতে আঁকা রংধ্নু পাহাড়ের।

বেগুনী,নীল,আসমানী,সবুজ,হলুদ,কমলা ও লাল এই সাতটি রংয়ের মিশ্রণের পাহাড়টি দেখে বোঝার উপায় নেই,এর পুরোটাই প্রাকৃতিক। সুন্দর এই স্থানটির দেখা মিলবে চীনের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে গানসু প্রদেশের অন্তর্গত জাংহে শহরে। এটি ‘ দাংজিয়া ল্যান্ডফর্ম জিওগ্রাফিকাল পার্ক’ নামে পরিচিত।

শুধু একটি পাহাড় নয়,এখানকার সমগ্র পর্বতমালাই রংধনুর সাত রং এ মোড়া। ১২৪ বর্গমাইল জায়গা জুড়ে অবস্থিত পার্কটি। ২০১২ সালে স্থানটি অর্ধ-জাতীয় জিওপার্ক হিসাবে ঘোষিত হয়। এরপর ২০১৬ সালে প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে উর্ত্তীন হওয়ায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ভুমি  ও সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ঝাংয়ে ন্যাশনাল জিওপার্ক ‘ নামে নামকরণ করা হয়।

সাধারণত পাহাড় নাম শুনলেই আমাদের মাথায় আসে রুক্ষ শুষ্ক কঠিন স্তর কিংবা সাদা বরফের শৃঙ্গ। কিন্তু কেন এই পাহাড় রংধনুর সাত রংয়ে মোড়া? বিজ্ঞানীদের গবেষণায় মিলেছে এর উত্তর। তাদের মতে বহু বছর ধরে টেকটনিক প্লেটে সংঘর্ষের ফলে এই পর্বতমালার গায়ে সাত রং ফুটে উঠেছে। বারবার এর সংঘর্ষের ফলে ভূ-গর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছিল শিলাস্তর। আর এগুলোতে ছিল খনিজ পদার্থ, রঙিন সিলিকাসহ নানা উপাদান। বহু বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি,ঋতু পরিবর্তন ও রাসায়নিক বিভিন্ন বিক্রিয়ার আজকের এই রেইনবো পাহাড়। বিজ্ঞানীদের ধারণা এটি তৈরি হতে সময় লেগেছে ২ কোটি ৪০ লাখ বছর।

প্রাকৃতিকভাবে তৈরী পাহাড়টি দেখলেই যেকোনো পর্যটকের চোখ রঙিন হয়ে উঠবে। এটি যেন ছবির মতো জীবন্ত। রংয়ের সাতটি ভিন্নতা রয়েছে এখানে। এর প্রাথমিক রং হচ্ছে লাল। এটি একটি লৌহ অক্সাইড আবরণ যা হেম্যাটাইট নামেও পরিচিত।

স্থানটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলো জুন থেকে সেপ্টেম্বর। কেননা এসময়ে প্রখর সূর্যতাপ ও মাঝেমধ্যে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সাত রংয়ের বাহারি রূপ বের করে আনে। পার্কটির অভ্যন্তরে বাস নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়াও এখান থেকে রঙিন পাথর সংগ্রহেও নিষেধ রয়েছে। এটি সংগ্রহ দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পর্যটকদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে।

ভোরবেলা সূর্যোদয় ও সন্ধ্যার সময় স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ্য। কেননা, এই সময়ে চারপাশের আলোর খেলায় পাহাড়ের রং বদলাতে শুরু করে। এই দুই সময়ে হলুদ ও রক্তিম বর্ণের পাহাড়গুলো হালকা ধূসর রংয়ে রূপ নেয়। কীভাবে একটা পাহাড় প্রকৃতির সাত রংয়ে মিলিয়ে যায় তা উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের নানা পর্যটক ভিড় জমায় পার্কটিতে। ইউনেস্কো ২০১০ সালে পার্কটিকে’ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসাবে ঘোষণা করেছে।

aurnobprashad456@gmail.com

 

শেয়ার করুন