
প্রকাশিত হয়েছে :
সংশোধিত :

প্রাকৃতিক দূর্যোগসমূহের মধ্যে যে দূর্যোগটি কোনও ধরনের আগাম সংকেত না দিয়েই জনজীবনে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে তার নাম ভূমিকম্প। পৃথিবীব্যাপী এটি এখনও মানুষের কাছে একটি চরম আতঙ্কের নাম। কখনও কখনও এর তীব্রতা এতটাই বেশি থাকে যে তা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়ে থাকে।
গত ২১ নভেম্বর (শুক্রবার) সকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে ১০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয় বহু মানুষ। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এক দিনের ব্যবধানে আরো দুইবার ভূকম্পনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ।
তবে পরের দুইটি ভূমিকম্প জানমালের তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি করেনি। তবুও ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেকোনো ভূমিকম্পের পরই রিখটার স্কেলে এর মাত্রা কতটুকু ছিল তা প্রকাশ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু রিখটার স্কেলে কোন মাত্রার ভূমিকম্পের কি অর্থ তা অনেকের কাছেই অজানা। এবারের লেখায় জানার চেষ্টা করব রিখটার স্কেলে বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্রতা সম্পর্কে।
২.০ এর কম
রিখটার স্কেলে কোনও ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ২ এর কম হয় তাহলে সেটিকে অতি মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়। এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত মানুষ টের পায় না। শুধু যন্ত্রের সাহায্য এর উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া এর ফলে কোনও ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয় না।
২.০ - ২.৯
এটিও এক ধরনের মৃদু ভূমিকম্প। অনেক মানুষই এটি অনুভব করতে পারে না। এছাড়া এর ফলেও জানমালের তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। এই ধরনের ভূমিকম্পে মানুষের মাঝে খুব বেশি আতঙ্কও পরিলক্ষিত হয় না।
৩.০ - ৩.৯
কোনও ভূমিকম্পের মাত্রা যদি রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৩.৯ এর মধ্যে থাকে, তাহলে উক্ত এলাকায় কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এর ফলে ভবন সামান্য দুলে উঠতে পারে। তবে এর ফলে সাধারণত কোনও ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখা যায় না।
৪.০ - ৪.৯
এই মাত্রার ভূমিকম্পে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বাড়ি কিংবা অফিসের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়তে পারে। এছাড়া ঘরের জিনিসপত্রেও হালকা কাঁপুনি দেখা যায়।
৫.০ - ৫.৯
এই মাত্রার ভূমিকম্প কিছুটা শক্তিশালী হয়ে থাকে। দেয়ালে ফাটলে দেখা দেয়ার পাশাপাশি ভবন ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যেসব ভবন পুরোনো কিংবা যথাযথ নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়নি, সেসব ভবনে ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকে। এছাড়া এই সময় মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা যায়। অনেকে তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে আহত হওয়ার নজিরও রয়েছে। উল্লেখ্য ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পটি ছিল ৫.৭।
৬.০ - ৬.৯
এটি একটি শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্প। এই ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি একটি বড় এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। এসময় রাস্তায় ফাটল দেখা দিতে পারে। এছাড়া জনবহুল এলাকায় প্রাণহানির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
৭.০ - ৭.৯
এই মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্রতা থাকে পূর্বের মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি৷ এতে বিশাল এলাকাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে। রাস্তায় ফাটল ধরার পাশাপাশি ভেঙ্গে পড়তে পারে সেতু। এছাড়া ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয় এই মাত্রার ভূমিকম্পে।
৮.০ - ৮.৯
কোনও ভূমিকম্পের মাত্রা যদি রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ৮.৯ এর মধ্যে থাকে তাহলে একটি বিশাল এলাকাজুড়ে সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে থাকে। একটি বিস্তীর্ণ এলাকা নিমিষেই ধ্বংস্তূপে পরিণত হতে পারে এই মাত্রার ভূমিকম্পে। ঢাকায় ১৭৬২ ও ১৮৯৭ সালে এরকম ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথও পরিবর্তন হয়ে যায়।
৯.০ কিংবা এর অধিক
৯ কিংবা এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্প কয়েকশো মাইল এলাকাজুড়ে ধ্বংসলীলা ডেকে আনতে পারে। বড় বড় ভবনগুলো নিমিষেই মাটিতে ধসে পড়ে। এই ধরনের ভূমিকম্পে দীর্ঘক্ষণ ধরে কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া সুনামি সৃষ্টির ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। এতে করে বিশাল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে থাকে। চিলিতে ১৯৬০ সালে ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শুধু চিলিতে হয়নি। জাপান ও ফিলিপাইনেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.