কোটি কোটি টাকার বিমা দাবি অমীমাংসিত রেখেছে এমন কোম্পানিগুলোর প্রতি আরও কঠোর হওয়ার জন্য বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে, বিমা দাবির পুঞ্জিভূত বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ২১৫ কোটি টাকায়। এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া বিমা খাতের অনিয়মের প্রমাণ বলে মনে করা হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে আর্থিক খাত সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার জের ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) জানায়, বকেয়া দাবির নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করতে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতে হবে।
এফআইডি’র মাসিক সভায় বিমা দাবির সংখ্যা এবং নিষ্পত্তির তথ্য দাখিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এফআইডি কর্মকর্তারা জানান, বিমা দাবির নিষ্পত্তিতে পিছিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর একটি তালিকা তৈরি করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে জানানোর জন্য আইডিআরএ-কে বলা হয়েছে।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ জীবন বিমার দাবির বকেয়া পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা এবং সাধারণ বিমার ক্ষেত্রে বকেয়া ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। সাধারণ বিমার ১৬ হাজার ৬৬৪টি দাবি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, এই বিমা কোম্পানিগুলো তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আইডিআরএ কর্মকর্তারা জানান, বিমা দাবির নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বছর আইডিআরএ কয়েকটি বিমা কোম্পানিকে একীভূত হওয়ার পরামর্শ দেয়, যাদের আর্থিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।
কিছু কোম্পানির বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা পুরো খাতের সম্ভাব্য গ্রাহকদের আস্থাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ওই কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়া সত্ত্বেও তাদের লিকুইডেশন বা একীভূতকরণের পথে যায়নি বিগত সরকার।
এফআইডিএ’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, সরকার তাদের একীভূতকরণের পথে যায়নি, কারণ বিষয়টির সঙ্গে লক্ষ লক্ষ বিমা গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, "কোম্পানির লিকুইডেশন বা একীভূতকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে বিশাল পরিমাণ দাবির নিষ্পত্তি জড়িত।"
সামগ্রিক প্রতিকারের ব্যাপারে তিনি বলেন, "আমরা কোম্পানিগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা করছি, যাতে বিমা গ্রাহকরা তাদের অর্থ ফেরত পান এবং একইসঙ্গে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।"



