Bangla
2 days ago

নতুন বছরে যে স্কিলগুলো আপনাকে এগিয়ে রাখবে

Published :

Updated :

প্রতি বছর ইংরেজি নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মেতে ওঠে গোটা বিশ্ব। পুরোনো বছরের সকল জীর্ণতাকে কাটিয়ে নব উদ্যমে জীবন শুরু করে বিশ্ববাসী।

আর এরই অংশ হিসেবে অনেকে নতুন বছরজুড়ে শিক্ষামূলক নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পরিকল্পনা করে যা একদিকে যেমন দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক, ঠিক তেমনি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেও ভূমিকা রাখে।

২০২৬ সাল এসেছে মাত্র কিছুদিন হলো। তবে সময় বড়ই অদ্ভূত। চোখের পলকেই যেন কেটে যায় একটি বছর। তাই ২০২৬ সালে এসে এমন কিছু স্কিল বা দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন যা জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তেমনই কিছু স্কিল সম্পর্কে আলোচনা করা হবে এই লেখায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে হাজারো পণ্যের ভিড়ে নিজের পণ্যটিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে সঠিক পরিকল্পনা কিংবা যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জিং কাজটিও সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অভিনব উপায় হিসেবে ইতোমধ্যেই বিশ্ব দরবারে বেশ কদর পেয়েছে। 

মূলত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে কোনও পণ্য বা সেবা সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং তা ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই চায় নিজেদের পণ্যকে গ্রাহকের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে। আর একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার সহজেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাপী ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসারের কারণে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নতুন বছরে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষতা অর্জন হতে পারে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।

প্রোগ্রামিং

বর্তমানে কম্পিউটার ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাই করা যায় না। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা পড়াশোনা- সব ক্ষেত্রেই যন্ত্রটি একটি অবশ্যম্ভাবী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ভাষায় কথা বলি কিংবা কাজ করি কম্পিউটার সেই ভাষা বোঝে না। আর কম্পিউটারের ভাষায় কোনও কাজ বর্ণনা করাকেই বলা হয় প্রোগ্রামিং।

একজন ব্যক্তি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে যত বেশি দক্ষ, আধুনিক বিশ্বে তার কদরও তত বেশি। তবে প্রোগ্রামিং বিষয়টির আওতা কিছুটা জটিল ও বিস্তৃত। পাইথন, সি/সি++, জাভা, জাভা স্ক্রিপ্ট, এসকিউএল ইত্যাদি প্রোগ্রামিংয় জগতে বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম।

বৈশিষ্ট্য কিংবা কাজের দিক থেকে এই মাধ্যমগুলো একটি অন্যটির থেকে স্বতন্ত্র‍্য। যেমন- পাইথন ব্যবহৃত হয় অটোমেশনের কাজে। অন্যদিকে সি/সি++ ব্যবহৃত হয় কোর কম্পিউটিংয়ের কাজে। এছাড়া অন্যান্য প্রোগ্রামিং মাধ্যমগুলোরও রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও কার্যপরিধি।

প্রোগ্রামিং শেখার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সহজেই নিজেকে প্রযুক্তির জগতে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই স্কিলটি দেশে-বিদেশে সর্বত্রই সমাদৃত। বর্তমানে দক্ষ প্রোগ্রামাররা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকেন।

রিসার্চ মেথডোলজি ও এসপিএসএস

একটি দেশ তখনই উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করতে পারে যখন সেই দেশের গবেষণার পরিবেশ ও গুণগত মান থাকে অত্যাধুনিক। গবেষণাই পারে একটি জাতিকে নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে।

তবে গবেষণার জন্য একদিকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি কীভাবে একটি সফল গবেষণা পরিচালনা করতে হয় তা নিয়েও সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে রিসার্চ মেথডলজি একজন ব্যক্তির গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রিসার্চ মেথডলজিতে মূলত শেখানো হয় কীভাবে গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে এবং পরবর্তীতে তা উপস্থাপন করতে হয়। এছাড়া গবেষণা পত্রকে বিশ্ববিখ্যাত জার্নালে প্রকাশ করার ধাপগুলো সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয় এই কোর্সে।

অন্যদিকে এসপিএসএস হলো পরিসংখ্যানভিত্তিক এক ধরনের গবেষণা যা কোনো একটি বিষয়কে সংখ্যানুপাতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে। মূলত গবেষণাকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের জন্যই এসপিএসএস ব্যবহার করা হয়। রিসার্চ মেথডোলজি এবং এসপিএসএস বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে গবেষক হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে থাকতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর ব্যবহার একদিকে যেমন কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে, ঠিক তেমনি জীবনকে করে তুলেছে আরও বেশি উপভোগ্য। আগামীতে এআইয়ের ব্যবহার আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এআইয়ের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ হতে পারে আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে কাজকে আরো সহজে বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাই এআইয়ের পাশাপাশি মেশিন লার্নিংয়ের উপরও করা যেতে পারে পারে একটি বিশেষ কোর্স।

ক্রিটিক্যাল থিনকিং

এই স্কিল কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এছাড়া কোনও একটি বিষয়ে গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে অভিনব ও কৌশলী ভূমিকার মাধ্যমে গতিশীলতা বাড়ানোও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের অন্তর্গত। গণিত, ভূগোল ও কেস স্টাডির মাধ্যমে ক্রিটিক্যাল থিনকিংয়ের উপর ধারণা প্রদান করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। আর এই স্কিলটিও হতে পারে নিজেকে বিকশিত করার একটি সূবর্ণ সুযোগ।

tanjimhasan001@gmail.com

Share this news