গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গোডাউনে মজুদ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১১৯ বস্তা (৫. ৮ মেট্রিক টন) চাল উদ্ধারের ঘটনায় অবেশেষে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বুধবার বিকালে কামারদহ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সুকুমার রবিদাস বাদি হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে কামারদহ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুল ইসলাম সাবুকে।
তবে মামলার পর পরই থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা সাহাবুল ইসলাম সাবু হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানা হাজতে থাকা সাহাবুল ইসলাম সাবু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।
এ মামলার বিষয়ে ওসি জানান, চাল উদ্ধার ও আটকের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দেওয়ার কথা। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তাদের কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরে ইউএনও'র নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে গ্রাম পুলিশ সুকুমার রবিদাস থানায় লিখিত এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। হাসপাতালে পুলিশ পাহাড়ায় থাকা আসামি সাহাবুল ইসলাম সাবু সুস্থ্য হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
এদিকে, চাল উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দিনভর মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়, চলে আলোচনা -সমালোচনা ।
এরআগে, সংগঠনবিরোধী কাজের সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাহাবুল ইসলাম সাবুকে কামারদহ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ও প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ মে) সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক ও সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার ফাঁসিতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি গোডাউন থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১১৯ বস্তা (৫.৮ মেট্রিক টন) সরকারি চাল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান। চাল মজুদের অভিযোগে আটক করা হয় বিএনপি নেতা সাহাবুল ইসলাম সাবুকে। পরে জব্দনামা তৈরি করে চাল গুলো খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রওশানুল কাওসার মানিক সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু অভিযান করেছে পুলিশ ও প্রশাসন তাই মামলাও তাদেরকে করতে হবে। চাল উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলার জড়িত থাকলে খাদ্য বিভাগ থেকে মামলা করা হতো। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা মামলা না করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জড়িতদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন এমন প্রশ্ন? করলে তিনি এড়িয়ে যান।
এর আগে, গেল সপ্তাহে কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর গ্রামের জামায়াত নেতা আব্দুল কাফির বাড়ি থেকে ১৮৭ বস্তা ৪ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার ও মজুদের অভিযোগে আটক সবুজের বিরুদ্ধে নিজে বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন খাদ্য কর্মকর্তা রওশানুল কাওসার মানিক।
এছাড়া মামলা করার বিষয়ে কিছুই জানেন না উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হাসনাত জামাল সাংবাদিকদের বলেন, কে মামলা করবে না করবে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি শুধু জব্দ করা চাল গুলো গুদামে জমা রেখেছি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানে গোডাউন থেকে ৫০ কেজির ওজনের ১১৯ বস্তা চাল ও খাদ্য অধিদপ্তরের লোগোযুক্ত বেশ কিছু খালি বস্তা জব্দের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে সেগুলো খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়েছে। এসময় চাল কিনে গোডাউনে মজুদের অভিযোগে সাহাবুল ইসলাম সাবু নামে একজনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন পুলিশ ও খাদ্য বিভাগ। পুলিশ ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানান।











