হাতির দাঁত, ঘরের দেয়ালে হাতির চিত্র অথবা মাটি বা পিতলের তৈরি নানান আকৃতির হাতির মূর্তি। ভেবে দেখেছেন সব কিছুতেই কেন হাতি? শৈশব থেকে যৌবন কিংবা বৃদ্ধ বয়সের শখ বা পছন্দের তালিকায় হাতি কেন শীর্ষে?

গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে এমনকি প্রাচীনকালের নানা নিদর্শনে আমরা নানা ধরনের পশু-পাখির কথা উল্লেখ পাই। এছাড়া গ্রামীন ঐতিহ্য যেমন, ঘর সাজানোর বস্তুতে করা নানা শিল্পতে ফুটে উঠে নানা ধরনের পশু পাখির চিত্র।
বিশেষ করে হস্তশিল্পেও শৌখিনতার প্রতীক হিসেবে পশু পাখির অবয়ব লক্ষ্য করা যায়। শহুরে সমাজে এই মাটির তৈরি পশু-পাখির চাহিদা বেশ। এদের মধ্যে হাতি উল্লেখযোগ্য এক চরিত্র। ঘর সাজানোর জন্য মাটির তৈরি কিংবা পিতলের তৈরি হাতির দেখা পাওয়া যায় শৌখিন মানুষের ঘরের এক কোণে। তাছাড়াও চিত্রকর্মেও হাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় যা শোভা পায় শৌখিন মানুষের দেয়ালে।
শৌখিনতা হিসেবে ঘর কিংবা অফিস আদালতের দেয়াল কিংবা ঘরের কোণে হাতির মূর্তির ব্যবহার করার পাশাপাশি সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হচ্ছে হাতি পালনের শখ। বিশেষ করে বৃদ্ধদের মধ্যে এই হাতি পালনের শখ বেশি লক্ষ্য করা যায়। এমনইভাবে অনেক দিনের অর্থ জমিয়ে হাতি কিনে স্ত্রীকে উপহার দেয়ার নজিরও পাওয়া যায় নানান সময়।
তরুন-তরুণী ছাড়াও শিশুদের মধ্যে হাতির প্রতি একধরনের ঝোঁক রয়েছে। দেশি-বিদেশী বিশেষ করে ভারতীয় কার্টুন ও মুভিগুলোত্র হাতিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয় যার ফলে শিশুদের মধ্যে হাতিপ্রীতি জাগ্রত হয়।
মানুষের পছন্দের তালিকায় হাতির স্থান কেন এত উপরে এই প্রশ্ন তুললে অনেকগুলো বিষয় উঠে আসে। হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান একটি প্রাণী। স্মৃতিশক্তিও অত্যন্ত প্রখর। হাতি একবার একজন ব্যক্তিকে দেখলে সহযে ভুলে না। এমনকি কোনো গাছের ফল কবে খাওয়ার উপযোগী হবে সেটিও তারা বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর ওই গাছে আবার ফিরে যায় ফল খাওয়ার জন্য।
হাতির বুদ্ধির আরেকটি উদাহরণ হলো এটিকে নির্দেশনা দিলে সেটি সে অনুসরণ করে। এমনই একটি হাতি থাইল্যান্ডের সুদা হাতি যে ছবি আঁকতে পারে। সুদা ছাড়াও আরও অনেক হাতিই ছবি আঁকতে পারে।
তবে এর জন্য ট্রেনিং দিতে হয়। হাতির এই বুদ্ধিবৃত্তিক আচরণ ও প্রখর স্মৃতিশক্তির জন্য মানুষ হাতি এত বেশি পছন্দ করে। একুশ শতকের শুরুর দিকে বিশেষ করে হাতিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দিয়ে চাঁদা আদায় করা হতো।
বিয়ে বাড়ি, মেলা কিংবা দোকান থেকে হাতি তার শূড়ের মাধ্যমে চাঁদা তুলে দিতো তার মালিককে। বর্তমানে এই বিষয়টি তেমন চোখে পড়ে না বললেই চলে। শৈশবের এই স্মৃতি তরুন-তরুণীদের মনের মধ্যে দাগ কাটে।
এছাড়াও হাতি অত্যন্ত মমতাময়ী একটি প্রানী। কিছু বন্যহাতী রাগী স্বভাবের হলেও হাতির মমতাময়ী আচরণ প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের চোখে পড়ে। বাচ্চা ও মা হাতির মধ্যে একান্ত সময় ও খেলাধুলার মুহুর্তের ধারণকৃত ভিডিও বেশ সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এছাড়াও ২০২১ সালে তামিলনাড়ুতে হাতির মানবিকতার এক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। যেখানে দেখা যায়, এক দম হাতি বাগানের সব কলাগাছ খেয়ে সাবাড় করে দিলেও একটি কলাগাছের কোনো ক্ষতি করেনি। পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই গাছটিতে পাখির বাসা ছিল এবং এতে পাখির বাচ্চা থাকায় হাতিদের মায়া হয় এবং তারা সেই গাছটি স্পর্শও করেনি বলে মনে করা হয়। হাতির এই সকল বৈশিষ্টের জন্য হাতি সকল বয়সের মানুষের মধ্যে প্রিয় একটি প্রানী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
নাওশিন মুশতারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।
E-mail: nawshinmushtary38@gmail.com



