কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি প্রক্রিয়ার অধীনে সংকটাপন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেওয়া লিক্যুইডিটির দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত ব্যয় সহায়তার পরিবর্তে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় স্বচ্ছল ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ব্যয়বহুল নগদ সহায়তা পাওয়ার বিলম্বের কারণে সমস্যায় থাকা ব্যাংকগুলো উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের নগদ উত্তোলনের চাপ মোকাবেলা করতে পারছে না। যার ফলে তাদের আর্থিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তারা উল্লেখ করেছেন এমন পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের নগদ উত্তোলনের চাপ বাড়ছে এবং স্থায়ী তহবিলের সংকটের মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের শান্ত করার জন্য খুব সামান্য পরিমাণ অর্থ বিতরণ করে লড়াই করছে বলে।
সোমবার ( ৪ নভেম্বর ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতরের এক সভায় ৬ টি সংকট-গ্রস্থ বাণিজ্যিক ঋণদাতার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই ব্যাংকগুলো হলো - সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর বোর্ড পুনর্গঠনকালের পরবর্তী পরিস্থিতি জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন গভর্নর।
ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ও বোর্ড মেম্বার হিসেবে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা প্রোগ্রামের অধীনে তহবিলের প্রয়োজনীয়তা পূরণে বিলম্বের বিষয়টি জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, "সংকট সমাধানের জন্য আরও বেশি নগদ সহায়তা দ্রুত বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।"
এর প্রতিক্রিয়ায় গভর্নর তাদের নগদ পুনরুদ্ধার এবং আমানত সংগ্রহের প্রচেষ্টা বাড়ানোর জন্য আরও মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিন্তু তারা চলমান সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য ৭৯ দশমিক ০ বিলিয়ন টাকা নগদ সহায়তা দাবি করেছে।
তিনি বলেন, "কিন্তু গ্যারান্টি প্রক্রিয়ার অধীনে আমরা এখন পর্যন্ত মাত্র ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন টাকা পেয়েছি, যা আমাদের দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য খুবই কম।" এছাড়া ক্রেডিট পাওয়ার বিলম্ব নগদ সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত তহবিল বিতরণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ টি সচ্ছল ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংককে ৭ দশমিক ৫ শুন্য বিলিয়ন টাকা অনুমোদন করেছে।
২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বোর্ড পুনর্গঠনের পর ব্যাংকের বেইল-ইন পারফরম্যান্স শেয়ার করে আবদুল মান্নান বলেন, ২ মাসেরও কম সময়ে ১০ বিলিয়ন টাকারও বেশি আমানত সংগ্রহ করতে ব্যাংক সক্ষম হয়েছে।





