এবারের বৈশাখের যেন একমাত্র ইচ্ছে চারদিক ঝলসে দেয়া। গরমে কিছু খাওয়াও দায়স্বরুপ। কিন্তু এই গরমের একমাত্র ভালো দিক হচ্ছে আম। আম পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাৎই কম। শুধু পাকা আম নয়, কাঁচা আম প্রেমীদের সংখ্যাও কম নয়। তীব্র দাবদাহে পেটের শান্তির জন্য যত আম ব্যবহার করা যায় ততো ভালো। এছাড়া আমের এই মৌসুমে বাহারি পদের খাবার তৈরি না করলে চলে কি? হোক লবণ-মরিচ দিয়ে ভর্তা, আচার, চাটনি কিংবা কাঁচা আমের মন জুড়ানো শরবত।
কাঁচা আমের পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন সি ভরপুর আম আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই আমের মৌসুমে যতো সম্ভব কাঁচা আম খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনাদের জন্য রইলো কাঁচা আম দিয়ে তৈরি করা যায় এমন ৫টি মজাদার পদের হদিস।
কাঁচা আম-শসার রেসিপি
শুরুতে দুইটি খোসা ছাড়ানো কাচা আম টুকরো করে নিতে হবে। একই রকম করে কেটে নিন দুটো শসা। এবার ৪-৫ টি পুদিনা পাতা, এক চিমটি বিট লবণ এবং স্বাদমতো চিনি (কমপক্ষে ২ চামচ) মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। মিশ্রণ হয়ে গেলে তাতে যোগ করুন দের গ্লাস পানি। এবার আইস কিউব দয়ে পরিবেশন করুন কাঁচা আমের শরবত।
কাঁচা আম চিকেন
আপনারা সবাই হয়তো ব্যাম্বো চিকেন ট্রাই করেছেন। কিন্তু কাঁচা আমের মৌসুমে ব্যাম্বো চিকেন দিয়ে কি মন ভরে? এরজন্য প্রথমে একটি চিকেন ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার কাঁচা আমের পেস্ট করে নিন ব্লেন্ডারে অথবা হামানদিস্তায়।
এখন চিকেন এর সাথে অল্প করে সর্ষের তেল, পেঁয়াজবাটা, রসুনবাটা, জিরেগুড়ো এবং ধনেগুড়ো মাখিয়ে ম্যারিনেট করুন আধা ঘন্টা। এবার কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিয়ে তাতে শুকনো মরিচ এবং গরম মশলা দিন। এরপরে ম্যারিনেট করা চিকেন দিয়ে দিন।
এবার ভালো করে কষিয়ে নিন এবং এক পর্যায়ে কাঁচা আম বাটা দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পরে যখন মাংস থেকে তেল ছাড়াতে শুরু করবে তখন একে একে ধনেপাতা, চিনি ও লবণ পরিমান মতো দিয়ে দিন।
কষানোর শেষে অল্প পানি দিয়ে চিকেন সিদ্ধ করে নিন। আপনি চাইলে ঝোল বা কষানো দুইভাবেই পরিবেশন কতে পারেন। নামানোর আগে এক চিমটি গরম মশলা এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে গার্নিশ করুন। হয়ে গেলে কাঁচা আম চিকেন।
আমের টক, ঝাল, মিষ্টি পাতুরি
সবজি হিসেবে এই রেসিপিতে লাগবে বেগুন এবং মিষ্টিআলু। বেগুনগুলো লম্বা করে আর মিষ্টিআলুকে খোসা ছাড়িয়ে লম্বা করে কেটে নিতে হবে। এখন একটি কড়াইতে সয়াবিন তেল নিন, এবং তা গরম হয়ে গেলে তাতে পেঁয়াজকুচি করে নিতে হবে।
এখন একটি একটি করে সবগুলো মশলা যেমন আদা ও রসুনবাটা, মরিচ, হলুদ, ধনেগুঁড়া, লবণ ও পানি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এখন মিষ্টিআলু দিয়ে ৩-৫ মিনিট রান্না করে বেগুন দিয়ে কষিয়ে পরিমান মতো পানি দিন।
এখন দিয়ে দিন ফালি করে রাখা কাঁচা মরিচ ও কাঁচা আম। গারনিশিং এর জন্য ধনেপাতা ও সরিষার তেল দিয়ে দিন। এখন একটি ফ্রাইংপ্যানে কলাপাতা নিন এবং পাতুরি ঢেলে আরও ২ মিনিট রান্না করুন। ব্যাস হয়ে গেল আমের টক, ঝাল, মিষ্টি পাতুরি।
কাচা আমের সালাদ
৪টি আম খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে কেটে নিতে হবে। এবার একটি বাটিতে আমের সাথে গুড় বা চিনি ৪ চামচ নিন, কাসুন্দি লাগবে ৪ চা চামচ, বিট লবণ নিন চা চামচের ১/৪ ভাগ, স্বাদমতো লবণ, লেবু পাতা ২টি এবং কাঁচা মরিচ কুচি ২টি নিয়ে মেখে নিন।
আম পান্না
হাতে সময় থাকলে বানিয়ে নিতে পারেন আম পান্না। এই শরবত বানানের জন্য আম ভালো করে পুড়িয়ে নিন, যেন ভেতরের পাল্পও ভালো করে সেদ্ধ হয়। এরপর পোড়ানো আমটাকে ঠান্ডা করে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
আম পোড়ানোর কারণে আমের মধ্যে একটু স্মোকি ফ্লেভার আসবে একি সাথে আমের টক স্বাদ কমবে খানিকটা।
এবার আমের পাল্প, পানি, বিট লবণ, ভাজা জিরে গুড়ো, চাট মশলা এবং পুদিনা পাতা দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
এখন একটি গ্লাসে দুই চামচ মিশ্রণ নিন এবং তাতে পানি ও বরফ মেশান। আপনি চাইলে পোড়া আমের মিশ্রণটি একটি কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এবিং যখন তখন পানি ও বরফ মিশিয়ে উপভোগ করুন।
কাঁচা আমের ডাল
প্রথমে ডাল ভালো করে ধুয়ে ১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ডাল সেদ্ধ করে নিন। এখন এর মধ্যে হলুদ গুড়ো ও কাঁচা আমের ফালি দিয়ে ২০ মিনিট রান্না করুন।
ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে এর মধ্যে লবণ দিয়ে আরও এক কাপ পানি দিয়ে রান্না করে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন৷ এবার কড়াইয়ে সর্ষে ও শুকনা মরিচ ভেজে নিন। ভাজা হলে তা সেদ্ধ ডালের ওপর ছড়িয়ে দিন। একমিনিট পরে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন এবং গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন সুস্বাদু আমের ডাল।











