কিশোরগঞ্জ গিয়েছেন আর কিশোরগঞ্জের জেলখানার মোড়ের ভাই ভাই হোটেলের চালের রুটি গরুর মাংস ভুনা খাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বিশেষ করে, গত কয়েক বছর ধরে রাত হলেই ভাই ভাই হোটেলে আর পা ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না।

ঢাকা-ময়মনসিংহ হাই-ওয়ের পাশে অবস্থিত এই হোটেল 
Advertisement

শীতের রাতে খাবারের সন্ধানে বের হলেই সবারই চাহিদায় থাকে এই ভাই ভাই হোটেলের চালের রুটি দিয়ে গরুর মাংস ভুনা। স্থানীয়রা তো বটেই কিশোরগঞ্জের আশেপাশের এলাকাগুলো যেমন ময়মনসিংহ, ভৈরব, নান্দাইল, ভালুকার মানুষের কাছেও এই হোটেলের মাংস ভুনা এক পরিচিত নাম।

ভোজনরসিক বাঙালি প্রতিনিয়তই তাদের আশেপাশে আবিষ্কার করে চলেছে নানান ধরনের মুখরোচক খাবারের। কখনও তা হয়ে থাকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী খাবার আবার কখনও চাহিদার ভিত্তিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অল্প সময়ে নানান ধরনের খাবার। এমনই একটি খাবার ভাই ভাই হোটেলের গরুর মাংস ভুনা আর সাথে চালের রুটি।

এখানে অল্প দামে বেশি মাংস পাওয়া যায় বলে অনেক ভোজন রসিকই এখানে আসেন। হোটেলের সামনেই প্রতিদিন গরুর মাংস কেটে প্রস্তুত করা হয় এবং মূলত সন্ধ্যার পর থেকে মাটির চুলায় রান্না শুরু করা হয়।

নিজস্ব মশলায় মাটির চুলায় রান্না ধুয়া ওঠা গরুর মাংসের ভুনা আর সাথে চালের রুটি এক অন্যরকম স্বাদ এনে দেয় বলে জানান ভাই ভাই হোটেলে নিয়মিত খেতে আসা রফিকুল ইসলাম। তিনি পরিবার নিয়ে এমনকি কিশোরগঞ্জের বাইরে থেকেও যদি কোনো মেহমান আসেন তাদেরকে অবশ্যই রাতের বেলা খাওয়াতে নিয়ে আসেন বলে জানান।

দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করেন এই গরুর মাংসের ভুনা খেতে

এখানে খাবার খেতে আসা অধিকাংশ গ্রাহকই বলেন মূলত কম দামে বেশি মাংস এবং মান ও স্বাদ অত্যন্ত ভালো হওয়ায় কারণে তারা এখানে আসেন।

এখানে গরুর মাংস ভুনার দাম প্রতি প্লেট ১২০ টাকা। সাথে থাকে ১০ টাকা করে চালের রুটি। এই দামে প্লেট ভর্তি গরুর মাংস ভুনা পেয়ে খুশি খেতে আসা গ্রাহকরা।

পরিবার নিয়ে খেতে আসা একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আহসানুল হক বলেন, "শহুরে জীবনে মাটির চুলার রান্না খেতে পাওয়া এবং একটু হলেও গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া পেতেই বার বার আমি সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে এখানে খেতে আসি।"  

অনেকে এখান থেকে মাংস কিনে নিলেও একটি অংশ হোটেলের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। সারাদিন গরুর মাংস, চালের রুটি পাওয়া গেলেও মূলত রাতের বেলা জমজমাট হয়ে ওঠে দোকানটি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ হাই-ওয়ের পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন অনেক জায়গা থেকে মানুষ খেতে আসেন এই চালের রুটি দিয়ে গরুর মাংস ভুনা। চালের রুটির পাশাপাশি এখানে পরোটাও পাওয়া যায়।

ভাই ভাই হোটেলের স্বত্বাধিকারী আহাদ মিয়া নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারকি করেন। তিনি বলেন, ফ্রিজিং করলে মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। ভাই ভাই হোটেলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আগে টিনের চাল আর বেড়ার তৈরি ভবন থাকলেও সম্প্রতি তা পাকা ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই আগে খাবার খেতে আসলে অনেক বেশি গাদাগাদি করে বসতে হলেও এখন আরামে বসে খান গ্রাহকরা। 

ভাই ভাই হোটেলের আরেকটি আকর্ষণ হচ্ছে মজো দিয়ে তৈরি একধরনের ঠান্ডা পানীয়। অনুরোধের ভিত্তিতে তারা মজোর সাথে লেবুর রস ও কাচা মরিচ ছোট ছোট করে মিশিয়ে তৈরি করে এই মজাদার পানীয়।

চালের রুটি দিয়ে গরুর মাংস ভুনা খেয়ে শেষে এক গ্লাস এই টক ঝাল মিষ্টি স্বাদের পানীয় না খেলে যেন ভোজনরসিকদের তৃপ্তি মেটে না। মাংসের ভুনা ও চালের রুটির পাশাপাশি নানান ধরনের ভর্তা, ভাজি, মুরগীর মাংস, ভাত, ছোট মাছ, বড় মাছেরও ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তবে বেশিরভাগ মানুষই দূরদূরান্ত থেকে ভাই ভাই হোটেলে এই গরুর মাংস ভুনা খেতেই আসেন। 

নাওশিন মুশতারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

nawshinmushtary38@gmail.com