Loading...
The Financial Express

অর্থবছর কেন বাংলা বর্ষে নয়?

| Updated: April 14, 2021 17:00:51


অর্থবছর কেন বাংলা বর্ষে নয়?

বাংলাদেশে সরকারি কাজকর্মে দুই ধরনের বছর চালু রয়েছে। একটি পঞ্জিকা বছর এবং অপরটি অর্থবছর। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর হচ্ছে পঞ্জিকা বছর। আর জুলাই থেকে জুন হচ্ছে অর্থবছর। অর্থবছরটি পাকিস্তানি শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে আজও চালু রয়েছে। অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জন্মের সময়ও এই অর্থবছরটি চালু ছিল না। পাকিস্তান আমলের প্রথমদিকে গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা বছর এবং অর্থবছর ছিল একই। অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর। পরে রাষ্ট্রীয় বাজেট বানাতে গিয়ে সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ সহায়তার জন্য ক্রমাগত ধরনা দিতে থাকলে একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে জুলাই-জুন অর্থবছর গ্রহণ করা হয়। সেই থেকে আজও এই অর্থবছর চালু রয়েছে। আর বাংলাদেশ যেহেতু পাকিস্তানেরই ধারাবাহিকতা, তাই ১৯৭১ সালে আলাদা হয়ে অনেক কিছু পরিবর্তন করলেও অর্থবছরটি একই রেখে দেওয়া হয়েছে। কারণ এর মাঝে রয়েছে স্বার্থান্বেষী মহলের বিপুল লাভালাভ। মজার ব্যাপার হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একমাত্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দেশেরই অর্থবছর জুলাই-জুন নয়। ভারতে অর্থবছর হলো এপ্রিল থেকে মার্চ। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর। নেপালে ১৬ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানে এপ্রিল থেকে মার্চ। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অর্থবছর মোগল যুগ থেকেই এপ্রিল-মার্চে অব্যাহত থাকলেও পাকিস্তানি আমলে প্রবর্তিত জুলাই-জুন অর্থবছর বিগত ৫ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বিদ্যমান। বৃষ্টি ও বন্যা-বহুল নদী-বিধৌত বাংলাদেশে বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ভরা বর্ষায় (১ জুলাই, ১৬ আষাঢ়) আর শেষও হয় ভরা বর্ষায় (৩০ জুন, ১৫ আষাঢ়)। অথচ এটি হওয়ার কথা ছিল উল্টো।  যাতায়াত, যোগাযোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অর্থব্যয়, রাজস্ব আহরণ, হিসাবের খাতা সমাপ্তকরণ— সব কাজে বৃষ্টিবহুল বর্ষাকাল কীভাবে অপচয়-অপব্যয়ে পর্যবসিত হচ্ছে তা নাগরিকেরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। শুধু এমন অর্থ বর্ষের কারণেই প্রতিবছর বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়ে যাচ্ছে। আর এটি লুটপাটকারীদের জন্যও বড় সহায়ক।

বাংলাদেশের মৌসুমি আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বার্ষিক কর্মযোজনার নিরিখে জুলাই-জুন অর্থবছর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল। অর্থবছর শুরু হয়েই প্রথম তিন মাস বর্ষাজনিত কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করা যায় না। অর্থবছরের প্রথম তিন-চার মাস এক ধরনের কর্মহীন অতিবাহিত হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়। সাধারণত এক বছর মেয়াদি বাজেট-বর্ষে উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার তৈরি ও তা প্রকাশ থেকে শুরু করে এর মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ দেওয়া পর্যন্ত কেটে যায় অন্তত ৪/৫ মাস। তারপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাজ শুরুর পর হাতে থাকে সর্বোচ্চ মাত্র ৬/৭ মাসের মতো। মার্চ মাস পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে গিয়ে যখন কাজের ৩০ শতাংশ শেষ হয়, তখন পরবর্তী মাত্র এক প্রান্তিকে বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে লাগে তাড়াহুড়া। আবার এই শেষ প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকেই মূলত শুরু হয়ে যায় ঝড়বৃষ্টি। তাই তড়িঘড়ি করে, যেনতেনভাবে কাজ শেষ করে জুন মাসেই বিল তুলে নেওয়ার হিড়িক পড়ে। এজন্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘জুন-ফাইনাল’ বলে একটি টার্ম চালু হয়েছে। এ সময় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের দিন-রাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। ফলে অতিমাত্রার তাড়াহুড়ায় এসব কাজের কোনো গুণগত মানও থাকে না। বেশির ভাগ কাজই এভাবে জোড়াতালি দিয়ে বর্ষায় শেষ করার ফলে তা চলে যায় পানির নিচে। এতে সুবিধা হয় দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীর। তারা পানির নিচে অদৃশ্যমান কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেন। এ সুযোগে ৩০ টাকার কাজকেই শতভাগ দেখিয়ে ১০০ টাকার বিল তুলে পরস্পর ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। যে কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল অপচয়ের পাশাপাশি টেকসই না হওয়ার কারণেও একই কাজ এ দেশে বারবার করতে হয় এবং কর প্রদানকারী সাধারণ জনগণকেই দিতে হয় এর চরম খেসারত ও বিপুল অর্থদণ্ড।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে কার্যসম্পাদন কিংবা সরবরাহের আদেশ পেয়ে আসল ভৌত কর্মকাণ্ড যখন চূড়ান্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা, তখন বর্ষা শুরু হওয়ায় কাজের গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় মেরামত বা সংস্কার কাজে জনভোগান্তি যেমন বাড়ে, তেমনি কাজের গুণগতমান পরিবীক্ষণেও ঘটে বিপত্তি। অর্থবছরের শেষপ্রান্তে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শেষ করার তাগিদে কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানোর তাগিদে নানা অনিয়ম-অনৈতিকতার আশ্রয় নেওয়াটা এ দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ সময়টাতে অপব্যয়-অপচয়ের অবকাশ হয় অবারিত। শুধুমাত্র কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অর্থবছরের পাঁচ-ছয়টি মাস অর্থনীতির জন্য অনুকূল না হয়ে প্রতিকূল হয়ে ওঠে। অথচ অর্থবছরের এই ব্যাপ্তিটা জুলাই-জুনের পরিবর্তে যদি বাংলা সনের অনুরূপ এপ্রিল-মার্চ হয়, তাহলে বর্ষাকালে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে ব্যয় করে অক্টোবর-মার্চ এই ছয় মাস পুরোটাই নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে পরিপূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এই সময়টিই সব কাজের জন্য অনুকূল, সহনশীল ও উৎপাদনমুখী। আবার আয়কর আইন অনুযায়ী আগের অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আয়কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা চলে আসে। অথচ আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রায়ই বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থনৈতিক জীবনযাত্রায় দুর্গতি বয়ে আনে এবং এ সময়টা ফসল তোলারও মৌসুম নয়। ফলে আয়কর পরিশোধ তথা রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় বিব্রত বোধ করে রাজস্ব প্রদানকারীরা, নানা কারণে প্রায় প্রতিবছরই আয়কর প্রদানের সময় বাড়ানোর দাবি তোলেন। ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয় শ্রেণীর করদাতার জন্যও মে-জুন মাসে করের হিসাবায়ন, কর প্রদান তথা রিটার্ন দাখিলে বিড়ম্বনা স্বাভাবিকভাবে কম হবে। কৃষিপ্রধান অর্থনীতির এই দেশে উৎপাদন মৌসুম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও আবহমান সংস্কৃতির সুসময় শনাক্ত করেই অর্থবছরের ব্যাপ্তিকাল নির্ধারিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের অর্থবছরের ঐতিহ্য

পয়লা বৈশাখ থেকে অর্থ বর্ষ গণনার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন মোগল সম্রাট আকবর। ভারতবর্ষের সেরা রাজ্য ও খাদ্যভাণ্ডার বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করেই মূলত রাজস্ব আহরণ তথা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পয়লা বৈশাখ হতে অর্থ বর্ষ গণনার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন। ইতিপূর্বের চান্দ্র মাসের ভিত্তিতে প্রচলিত হিজরি সন এবং সৌরবর্ষ গণনার পদ্ধতি প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় করতে তাঁর নবরত্ন সভার সবচেয়ে বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ সদস্য আবুল ফজল (১৫৫১-১৬০২) এবং অর্থ ও রাজস্ব বিষয়ক সদস্য রাজা টোডরমলকে তিনি এ দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাদের নির্দেশনায় ফতেহউল্লাহ সিরাজী যে সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করেন তার ভিত্তিতে ‘ফসলী সন’ নামে নতুন বর্ষ গণনার রীতি প্রবর্তিত হয় ৫৯৪ হিজরি সনের জুলিয়ান ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১২ এপ্রিল এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১৪ এপ্রিল। এটি প্রবর্তনের খ্রিষ্টীয় সনটি ১৫৮৪ হলেও ফসলী সনের প্রবর্তক সম্রাট আকবরের সিংহাসন আহরণের বছর ১৫৫৬ থেকে এর কার্যকারিতা প্রদান করা হয়। প্রজাদের উৎপাদিত ফসলের ওপর ‘সেস’ বা কর রাজস্ব আরোপ, এবং মৌসুমেই তা সংগ্রহের সুবিধার্থে মূলত ফসলী সনের প্রবর্তন। এই ফসলী সনই পঞ্জিকা তথা অর্থবছর হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতের দিল্লিতে বসে প্রবর্তিত রাজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশক এই ফসলী সনই পরবর্তীকালে সুবে বাংলায় বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন হিসেবে  ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতের রাজদণ্ড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ওয়েস্ট মিনস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে আইনসভায় পেশ করা হয়  ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল। অর্থবছরের ধারণাটা বাংলা সনের অনুগামী রাখার পক্ষপাতী ছিলেন ব্রিটিশ-ভারতের প্রথম অর্থমন্ত্রী জেমস উইলসন (১৮০৫-১৮৬০)। তিনি ছিলেন ‘ইকোনমিস্ট’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ব্রিটেনের অর্থ সচিব ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের সচিব, ব্রিটিশ আইনসভার প্রভাবশালী সদস্য, ফ্রি ট্রেড আন্দোলনের কর্মী ও পেপার কারেন্সির প্রবক্তা। জেমস উইলসন  ভারতে ভাইসরয়ের কাউন্সিলে অর্থ সদস্য (মন্ত্রীর মর্যাদায়) হিসেবে নিযুক্তি পেয়ে কলকাতায় যোগদান করেন ১৮৫৯ সালের ২৯ নভেম্বর। সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতে নতুন ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক সংকটের মোকাবিলায় উইলসনকেই উপযুক্ত ভেবেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড পামেরস্টন। ইতিহাস-সচেতন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ উইলসন ভারতের আর্থ-সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য থেকে ধারণা নিয়ে উপস্থাপিত ভারত সরকারের প্রথম বাজেট বক্তৃতাতেই এপ্রিল মাস থেকে বাজেট বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেন, প্রচলিত বাংলা সনের সঙ্গে ছিল যার যৌক্তিক সাযুজ্য। পরবর্তী চার বছর বাজেট এপ্রিল, মে ও জুন মাসে উপস্থাপিত হলেও ১৮৬৫ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ১ এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরুর বিধান কার্যকর হয়।

বিশ্বের ২৩৩টি দেশে অর্থবছর সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৬টি দেশের অর্থবছর পঞ্জিকাবর্ষ (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অনুযায়ী, ৩৬টি দেশে এপ্রিল-মার্চ, ১৯ দেশে জুলাই-জুন এবং ১১টি দেশে অক্টোবর-সেপ্টেম্বর। আমেরিকান মহাদেশের দেশগুলোতে (থাইল্যান্ডসহ) অক্টোবর-সেপ্টেম্বর,  কমনওয়েলথভুক্ত বেশির ভাগ দেশে জুলাই-জুন (ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, হংকং বাদে) এবং মৌসুমি বলয়ভুক্ত ও এশীয় দেশসমূহে (ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, হংকংসহ) এপ্রিল-মার্চের প্রাধান্য। চীন এবং মালয়েশিয়া উভয়ই পঞ্জিকাবর্ষকে অর্থবছর মানে। কোনো কোনো দেশ যেমন নেপাল (১৬ জুলাই-১৫ জুলাই), ইরান (২১ মার্চ-২০ মার্চ), ইথিওপিয়া (৮ জুলাই-৭ জুলাই) মাসের মধ্যবর্তী তারিখ থেকে অর্থবছর শুরু করে থাকে। এর পেছনে তাদের নিজস্ব পঞ্জিকা বছরের প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় অর্থবছরের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব বহুবার উঠেছে। বাংলা সনের হুবহু অনুসরণে বাংলাদেশের অর্থবছর বৈশাখ-চৈত্র অথবা এপ্রিল-মার্চ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অথবা গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষ বা জানুয়ারি-ডিসেম্বরকেও অর্থবছর করা যেতে পারে। বাংলাদেশের জলবায়ু এবং কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনের সময়চক্র এবং আর্থ-প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের আবহমান সংস্কৃতি বিবেচনায় আনলে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ হওয়াটা বেশি যুক্তিযুক্ত বলে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন।  

বাংলা সন ও তারিখ যুগ যুগ ধরে এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবনপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে আছে। সেই সন ও তারিখকে বাঙালির জীবনের অনেক ক্ষেত্রে গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি, যদিও বাঙালি হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা হয়েছে—তারও ৫০ বছর পার হতে চললো। বাঙালির অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীনভাবে নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য সংহত করার সুযোগ পাওয়ার পরও, অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি। সে কারণে গ্রামীণ বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকলেও, বাংলা সন ও তারিখ আজও শহুরে বাঙালি ও সরকারি উদ্যোগে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত নয়। বাংলা সন-তারিখ অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনো অর্থবছর, শিক্ষাবর্ষ, অনুষ্ঠান-সভা-দিবস ইত্যাদি নির্ধারিত হয় না। বাংলা নববর্ষে খুব কমই বর্ষপঞ্জি ও ডায়েরি বের হয়। সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খ্রিষ্টীয় সন ও তারিখে গুরুত্ব দেয় বলে, তাদের বর্ষপঞ্জি ও ডায়েরি বাংলা নববর্ষে বের হয় না। বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ- যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ও বাঙালি সংস্কৃতির ধারক-বাহক বলে অহংকারবোধ করেন- তারা এ বিষয়ে অনায়াসে ভূমিকা রাখতে পারে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘে গিয়ে বাংলায় ভাষণ দেন, বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখার কথা বলেন, তখন এমন অর্থবছর চালু রাখার হিসাব মেলে না। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর শাসনামলে অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করেন, তাহলে তা হবে বাঙালির সংস্কৃতি বিকাশে একটি বড় ধরনের মৌলিক পরিবর্তন- যার দ্যোতনা ও প্রেষণা জনগণের পথচলাকে করবে আরও দৃঢ় ও লক্ষ্যমুখী। 

Share if you like

Filter By Topic

More News

বিভিন্ন দেশে চিঠিপত্র দিচ্ছি, ভাগ্য ভালো হলে তাড়াতাড়ি টিকা পেয়ে যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মহামারীর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৭.৩১ শতাংশ

‘গাড়ির কুনো ঝামেলা নাই, মামুরা ঝামেলা করে, ক্যাশ দিয়া দিই’

ভার্চুয়াল শুনানিতে ১৯ দিনে জামিন পেয়েছেন ৩৩,৮৫০ কারাবন্দি

বিক্রি বাড়াতে ‘ডিসকাউন্টে’র প্রতিযোগিতায় নেমেছেন পোশাক বিক্রেতারা

এভাবে বাড়ি যাওয়া ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ‘এক টাকায় ঈদ আনন্দে’ মিলছে হাজার টাকার পণ্য

মধুমাসের মধুর ফল

‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের প্রতিবাদে চঞ্চল চৌধুরী শুনিয়েছেন মানবতার মন্ত্র

বাঁশখালীতে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৩

-->