Loading...
The Financial Express

অস্ট্রেলিয়ায় জোকোভিচের ভিসা বাতিলের পেছনে যে রাজনীতি

| Updated: January 15, 2022 18:03:39


সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচের পক্ষে মেলবোর্নে বিক্ষোভও হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচের পক্ষে মেলবোর্নে বিক্ষোভও হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা বাতিলের পরও আদালতের রায়ে সেখানে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ, তবে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ফের তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

দ্বিতীয়বার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচের আপিলের সুযোগ থাকলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ‘নাটকীয়তা’। রোববার আদালতে শুনানির আগে আটক করা হয়েছে শীর্ষ এই টেনিস তারকাকে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নেওয়ার আগেই জোকোভিচ ‘হুঁশিয়ারি’ করেছিলেন,সেখানে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে যাচ্ছেন।

জোকোভিচকে ঢুকতে না দেওয়ার চেষ্টার পর শনিবার আটক করা পর্যন্ত ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, জোকোভিচকে নিয়ে শুরু থেকে ‘বেকায়দায়’ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার।

আদালতের সিদ্ধান্তের পরও ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ দ্বিতীয়বার ভিসা বাতিল অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনী বছরে ভোটারদের সামনে সরকারের মুখ রক্ষার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনে সরকার ভাবমূর্তি অর্জনে যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কের পতন, বিব্রতকর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জোকোভিচের সমর্থকদের ক্রোধও সহ্য করতে প্রস্তুত।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ফেডারেল সরকার একটি পয়েন্ট তৈরি করতে অনড় ছিল, তা হলো কেউই নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়। এমনকি বিশ্বের এক নম্বর ব্যক্তিটিও নয়।

এটি একটি সহজ, সরল নীতি। কিন্তু যেভাবে তা মেনে চলা হয়েছে- তাতে কিন্তু কিছু একটা হয়েছে।

জোকোভিচ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছিলেন, মেলবোর্নে পৌঁছানোর সময় তার নথিপত্র ঠিক না থাকলে ‘তিনি পরবর্তী বিমানে বাড়ি যাবেন’। ‘নিয়ম নিয়মই’।

৬ জানুয়ারি যখন জোকোভিচের ভিসা বাতিল করা হয়, তখনও মরিসন একই কথা বলেন।

জোকোভিচ যখন এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তখন মরিসন বলেছিলেন,এটি নির্ভর করছে আদালতের ওপর।

তবে আদালতে সরকারের অবস্থানকে নড়বড়ে দেখা গিয়েছিল। সরকার আদালতে আরও সময় চেয়েছিল, তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক। জোকোভিচকে কেন প্রথম স্থানে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়েছিল- তা নিয়েও তদন্তের মুখোমুখি করা হয়।

বিচারক অ্যান্টনি কেলি আদালতে জোকোভিচের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই পুরো ব্যাপারটা শেষ হয়ে যেতে পারত।

মেলবোর্ন বিমানবন্দরে জোকোভিচের ব্যাপারে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছিল তা ‘অদক্ষ’ কাজ হিসেবে বলে উল্লেখ করে বিচারক তার ভিসা পুনর্বহাল এবং মুক্তির নির্দেশ দেন।

কিন্তু তা হয়নি।

নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে পুনরায় তার ভিসা বাতিলের সুযোগ ছিল অভিবাসন মন্ত্রী অ্যালেক্স হকের। আর শুক্রবার সেই কাজটি করেছেন তিনি।

অভিবাসনমন্ত্রীর এই প্রেরণার পেছনে অনেক কিছু বলা হয়েছ। মূলত এটি রাজনৈতিক এবং এটিই করা হয়। নোংরা রাজনীতি থেকে বের হওয়া অসম্ভব।

এখানে সরকারের সামনে দুটি বিষয় বিবেচনা করার আছে।

প্রথমত, মরিসন প্রশাসনকে গভীর বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়ার জনগণ এবং বিশ্বের কাছে মনে হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা নিয়ম করেছে তবে নিজেরাই তা বোঝে না বা তাদের কাছে বিষয়গুলো অস্পষ্ট। তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলে না বলেও মনে হচ্ছে।

সরকারের একটি অংশ ভিক্টোরিয়া রাজ্য অস্ট্রেলিয়া টেনিসের সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। ফেডারেল কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু বলছিলেন। টুর্নামেন্ট আয়োজকরাও অভিযোগ করছিলেন, তারা এ দুইয়ের মধ্যে আটকে পড়েছেন।

দ্বিতীয়টি হলো অস্ট্রেলিয়ার কোভিড পরিস্থিতি। অস্ট্রেলিয়ার দুটি সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়ায় এখন কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়েক হাজার কোভিড শনাক্ত হয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতে কোভিড পরীক্ষা করতে মানুষের ভিড় বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যদিও ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, তবে মহামারীর শুরুর পর দেশটিতে দীর্ঘ লকডাউন ও কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে।

এটি এমন দেশ যেখানে একজন শনাক্ত হলে পুরো শহর বা গোটা রাজ্যকে লকডাউনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দেশটির নাগরিকরা এমনটিও বলে- তাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাই তারা করেছে।

কোভিড মোকাবেলায় তারা টিকা নিয়েছে, এখন বুস্টার ডোজ নিচ্ছে। কিন্তু তারপরও ওমিক্রন তাদের চারপাশে ঘিরে ধরেছে। অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, মহামারী প্রতিরোধে তারা আর কী করতে পারত?

এবার শীর্ষ টেনিস তারকার ঘটনাটি পাশাপাশি রেখে চিন্তা করলে কী দেখা যায়? নোভাক জোকোভিচ ভ্যাকসিনের পক্ষে নয়, কোভিড পজিটিভ থাকাকালীন কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ভেঙেছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের পূর্বে টিকা শিথিলের ঘোষণাপত্রে ‘মিথ্যা তথ্যের’ কথা স্বীকারও করেছেন।

জোকোভিচের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার তারিখ নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। শুরুতে তিনি বলেন, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি ১৭ ডিসেম্বর জেনেছেন। কিন্তু তিনি আদালতের হলফনামায় ১৬ ডিসেম্বর কোভিড পজিটিভ হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

“এক্ষেত্রে আপনি বা আমি হতাম?” টুইটারে কেউ একজন বলেছে- “তারা কি এতকিছুর পরই আমাদের অনুমতি দেবে?”

এর সহজ উত্তর হলো, না।

তবে কোনো সন্দেহ নেই, স্কট মরিসনের সরকার এই বিতর্কের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্য এবং ফেডারেল সরকারগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঠেলাঠেলি, যোগাযোগের ভাঙন, কোন নিয়মের অস্বচ্ছতা কার জন্য প্রযোজ্য, টিকা না নেওয়া শীর্ষ ক্রীড়াবিদের কোভিড নিয়ম লঙ্ঘন- এ সবকিছু বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, যা ঠিক করার চেষ্টা করছেন রাজনীতিবিদরা।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে এখন যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো- অস্ট্রেলিয়ান সরকারের জোকোভিচের ভিসা বাতিলের চেয়ে আরও অনেক কিছু ব্যাখ্যা করার ছিল।

Share if you like

Filter By Topic