Loading...
The Financial Express

ঈদের জামাতে হাজারো মানুষ, মহামারী-মুক্তির মোনাজাত

| Updated: May 14, 2021 19:14:09


ঈদের জামাতে হাজারো মানুষ, মহামারী-মুক্তির মোনাজাত

মহামারীর মধ্যে এক মাস রোজা শেষে এসেছে আরেকটি ঈদ; সংক্রমণ এড়াতে বিধিনিষেধের মধ্যেই মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন হাজারো মুসলমান।

শুক্রবার সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবারের রোজার ঈদের প্রধান জামাত হয়। ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বালা মুসিবত থেকে দেশকে সুরক্ষা চাওয়া হয় আল্লাহর কাছে।

নামাজের আগে মসজিদে মাইক থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নিতে বলা হয়। করা হয় বিভিন্ন বয়ান, শোনানো হয় বিভিন্ন হাদিস।

আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রাখলেও ঈদের সকালে তা বাগড়া দেয়নি ঢাকায়। নানা বয়সী মানুষ ঈদ জামাতে অংশ নিতে হাজির হন বায়তুল মোকাররমে।

মহামারীর মধ্যে গতবছরের দুই ঈদের মত এবারও ঈদগাহ বা খোলা ময়দানে ঈদের জামাত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঈদের নামাজ মসজিদে মসজিদেই হচ্ছে।

করোনাভাইরাস অতি সংক্রামক বলে এবার বেশ কিছু বিধিনিষেধ মেনে নামাজ পড়তে হয়েছে সবাইকে।

সবাইকে বলা হয়েছে বাসা থেকে ওজু করে মাস্ক পরে মসজিদে যেতে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসা বাধ্যতামূলক। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানোতেও এবার নিষেধ ছিল।

প্রথম জামাতে যোগ দিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই বায়তুল মোকাররমে আসতে শুরু করে মানুষ। বায়তুল মোকারমের বাইরে ছিল নামাজে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন।

ঈদ জামায়াতে শিশু ও বৃদ্ধদের অংশ না নিতে বলা হলেও দেখা গেছে অনেকে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজে এসেছেন। প্রবীণদেরও বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে দেখা গেছে।

মাইকে বার বার অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে সবাই দূরত্ব বজায় রেখে বসেন। প্রায় ভর্তি মসজিদের ভেতরে তা যতটা সম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করেছেন সবাই।

সবাই স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মানছেন কি না দেখতে মসজিদের প্রবেশ পথে পুলিশ ছিল। তখন সবার মুখে মাস্কও ছিল। তবে নামাজ শেষে মোনাজাতের সময় কারো কারো মুখে আর তা দেখা যায়নি।

বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ পড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস।

নামাজ শেষে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে যারা ঈদ করতে ঢাকার বাইরে গিয়েছেন, তারা যেন বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় না আসেন।

নিরাপত্তা জন্য বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি র‌্যাবের গাড়িও দেখা যায়। পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, পুরো এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন তারা।

বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতের পর সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি জামাতের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এছাড়া পড়া-মহল্লার সব মসজিদেই নিজেদের নির্ধারিত সময়ে ঈদ জামাতে অংশ নিচ্ছেন নগরীর মুসলমানরা।  

আবহাওয়া ভালো থাকলে এমনিতে দেশে ঈদের প্রধান জামাতটি হয় ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই জামাতে নামাজ পড়েন ঈদের সকালে। গতবছরের মত এবারও তা করা যায়নি মহামারীর কারণে।

প্রতিবছর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় শোলাকিয়া ময়দানেও এবার ঈদ জামাতের আয়োজন নেই।

গতবছরের মত এবারও রোজার পুরোটা সময় দেশে ছিল লকডাউনের বিধিনিষেধ। সবাইকে যার যার কর্মস্থলের এলাকায় থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান ছিল সরকারের তরফ থেকে।

ঈদের আগের দিনও করোনাভাইরাস বাংলাদেশে কেড়ে নিয়েছে ৩১ জনের প্রাণ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, মোট ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৭ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এসেছে সরকারের খাতায়।

 

Share if you like