Loading...
The Financial Express

কোভিড: অবশেষে টিকার মেধাস্বত্ত্ব ছাড় দিতে রাজি হল যুক্তরাষ্ট্র

| Updated: May 06, 2021 19:46:45


ছবি: রয়টার্স ছবি: রয়টার্স

বিপুল চাপের মুখে করোনাভাইরাসের টিকার মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রেমোক্র্যাট দলীয় সাংসদ ও শখানেকের বেশি দেশের লাগাতার চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বুধবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্ত নেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ দিনের নীতি ছেড়ে তিনি উল্টোপথে মোড় নিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ক্ষুব্ধ করলেও নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন।

‘বিশ্বজুড়ে টিকার উৎপাদন বাড়াতে’ ভারত ও সাউদ আফ্রিকা মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের এই উদ্যোগের প্রস্তাব করেছিল।

এতে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে বলে যুক্তি দেখিয়ে বিরোধিতা করে ওষুধ কোম্পানিগুলো।

হোয়াইট হাউজে এক বক্তব্যে বাইডেন মেধাস্বত্ত্ব ছাড় নিয়ে নতুন এই অবস্থান ঘোষণার পরপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন তাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশেষ সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডাক আসে, তাতে সাড়া দিতে হয়।

তবে এই মুহূর্তে এই উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না। এই বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ডব্লিওটিও সদস্য দেশগুলোর সময়ের প্রয়োজন হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের খবর বের হওয়ার পর বিশ্বে দুই শীর্ষ উৎপাদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নাসহ কোভিড-১৯ টিকার উদ্ভাবক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়েছে।

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে চলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে এর ফলে টিকা-প্রতিরোধী প্রণঘাতি ধরন ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্বের মহামারী থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে পারে।

দেশ গত ছয় মাস ধরে কোভিড টিকার উপর থেকে মেধাস্বত্ত্ব ছাড় দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার ভারত ও সাউদ আফ্রিকার নেতৃত্বে অনেকগুলো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যুক্তরাজ্য ও ইইউ থেকে জোরালো বিরোধিতার মুখে পড়ে।

কিন্তু ট্রাম্পের উত্তরসূরী জো বাইডেন এবার উল্টোপথ ধরলেন। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের প্রতি যে সমর্থন দিয়েছিলেন বুধবার সেই সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেধাস্বত্ত ছাড়ে কি লাভ?

বিবিসি বলছে, মেধাস্বত্ত ছাড়ের এই পদক্ষেপ অনুমোদিত হলে টিকার উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো যাবে এবং দরিদ্র দেশগুলোকে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা যাবে বলে সমর্থকদের দাবি।

প্যাটেন্টসহ নানাভাবে মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণের যে বিধি রয়েছে সেটাকে মহামারী মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও অন্যান্য পণ্যের ব্যাপক আকারে উৎপাদনের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে উন্নয়নশীল অনেক দেশ।

তবে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মেধাস্বত্ত্ব ব্যবহার করে টিকা উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার লক্ষ্যে ভারত ও সাউদ আফ্রিকার নেতৃত্বে মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের প্রস্তাব নিয়ে ডব্লিউটিওতে আলোচনার প্রস্তাবে সব সময় বাধা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এই ছাড়া আদায়ে ডব্লিউটিওতে আলোচনায় জোরালোভাবে অংশ নেবে। ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্তের জন্য ১৬৪ সদস্য দেশের সর্বসম্মতি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতে বেশ সময় লাগবে।

সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কি?

বাইডেনের ‘ঐতিহাসিক’ এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস এক টুইটে বলেন, “কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত।“

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে ওষুধ কোম্পানিগুলো এর বিরোধিতা করে জোর দিয়ে বলছে, প্যাটেন্ট প্রধান বাধা নয়। এই উদ্যোগের ফলে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই উদ্যোগকে ‘হতাশাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারক ও সমিতিগুলোর আন্তর্জাতিক ফেডারেশন।

জেনেভাভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, “ছাড় দেওয়া সহজ। কিন্তু জটিল সমস্যার জন্য ভুল সমাধান।”

জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি জেষ্ঠ স্কলার ড. আমেশ আডালজা রয়টার্সকে বলেন, এই ছাড় আসলে সেই সব ওষুধ কোম্পানির স্বত্ত্বের ‘জবরদখল’, যাদের উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ফলে কোভিড-১৯ টিকার উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।”

Share if you like

Filter By Topic