Loading...
The Financial Express

দাম না পেয়ে’ পোস্তায় চামড়া ফেলে গেলেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

| Updated: July 23, 2021 11:29:40


দাম না পেয়ে’ পোস্তায় চামড়া ফেলে গেলেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

পুরান ঢাকার পোস্তা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশেপাশের বেশ কিছু আড়তের মোকামের সামনের প্রধান সড়কে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকেও শত শত নষ্ট চামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়; পরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এগুলো বর্জ্য হিসেবে নিয়ে যায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

‘দাম না পেয়ে’ দিনভর সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর এসব চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।তাদের অভিযোগ, আড়তদাররা তাদের কেনা দামও দিতে চাননি।

গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রেখে দরদাম চালিয়ে গেলেও শেষ সময়ে ‘পচে যাওয়ার’ অজুহাতে আড়ত বন্ধ করে চলে যান।

উপায় না দেখে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হন। এতে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

একদম কম দাম কিংবা কৌশলে সময় নষ্ট করে দাম কম দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ মানতে চাইছেন না আড়তদাররা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পচা চামড়া এনেছেন বলে দায় এড়াচ্ছেন তারা।

রাস্তার পাশাপাশি অনেক এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া নালা-নর্দমাতেও ফেলার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস।

পুরনো ঢাকার লালবাগে সড়কের উপরে পড়ে আছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া। বিক্রি করতে না পারায় এসব চামড়া ফেলে গেছে তারা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিপুরনো ঢাকার লালবাগে সড়কের উপরে পড়ে আছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া। বিক্রি করতে না পারায় এসব চামড়া ফেলে গেছে তারা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিএসব চামড়া নিয়ে করপোরেশনের কর্মীরা বেকায়দায় পড়েছেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে 'কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি' বিষয়ক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে এই দুই এলাকায় রাস্তার পাশে অনেক কাঁচাচামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও দু-একজায়গায় ফেলে দেওয়া এসব চামড়া ময়লার গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।

ওই এলাকায় খোঁজাখুজির পর চামড়া ফেলে দিয়েছেন এমন মৌসুমী ব্যবসায়ী বাদল নামের একজনকে পাওয়া গেল।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল (বুধবার) সারা দিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করে রাত আটটার দিকে আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে আসি। কিন্তু আড়তদাররা গড়ে ৩০০ টাকা করে দাম দিতে চান।

“এরপর দরকষাকষি করতে করতে সময় নষ্ট হয়, রাত গভীর হয়। পরে আড়তদাররা আমার সংগ্রহ করা চামড়া পচে যাওয়ার অযুহাত দেখিয়ে চামড়া না নিয়ে আড়ত বন্ধ করে চলে যায়।”

হতাশ এই ব্যবসায়ী বলেন, “তবুও সারারাত অপেক্ষায় ছিলাম যদি কোনো গতি করা যায়। শেষ পর্যন্ত ভোরে এসব চামড়া আমরা রাস্তায় ফেলে দেই।

“আমার মত আরও অনেকেই ছিলেন। তারাও শেষ পর্যন্ত বাড়িতে চলে গেছেন।”

কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। বুধবার গভীর রাত পর্যন্তও যাদের চামড়া আড়তদাররা নেননি সেগুলো পচে যায়। পরে তারা এগুলো রাস্তায় রেখেই চলে যান।

পরে এসব চামড়া সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসে ময়লা হিসেবে নিয়ে গেছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

Share if you like

Filter By Topic