Loading...
The Financial Express

পাট রপ্তানি ও চাষ বাড়ছে, দাম স্থিতিশীল দেখতে চান রপ্তানিকারকরা

| Updated: September 15, 2021 10:55:17


পাট রপ্তানি ও চাষ বাড়ছে, দাম স্থিতিশীল দেখতে চান রপ্তানিকারকরা

পৃথিবীজুড়ে এখন প্লাস্টিক বা কৃত্রিম তন্তু বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক তন্তু বা ফাইবারের একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশে এই সোনালী আঁশের রপ্তানি, চাষাবাদ ও দাম বেড়েছে।

তবে রপ্তানিকারকরা বলেছেন পাটের দাম একটি স্থিতাবস্থায় বেধে দেয়া দরকার যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ী- উভয়েই লাভবান হতে পারে। কারণ দাম অতিরিক্ত বাড়তে থাকলে পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। যার ফলে গ্রাহক হারানোর আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশ থেকে পাট পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

এক যুগের রেকর্ড ভেঙ্গে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে ১১৬.১৪ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় গত বছর পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ, খবর বিবিসি বাংলার।

বাংলাদেশের পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আইয়ুব খান বলেন, “সারা বিশ্বে এখন প্লাস্টিক বা সিনথেটিক ফাইবার বাদ দিয়ে ন্যাচারাল ফাইবারের একটা ডিমান্ড তৈরি হয়েছে। নানা ধরণের পণ্য তৈরি হচ্ছে।

''বাংলাদেশে এই খাতে অনেক প্রাইভেট সেক্টর তৈরি হয়েছে, বিনিয়োগ হয়েছে, যারা পাট দিয়ে পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করছে। ফলে এই খাতে একটা প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে। তারা কৃষকের কাছ থেকে বেশি দামে পাট কিনছে। তাই পাটের চাহিদাও বাড়ছে, দামও বেড়েছে।''

তিনি জানান, গত বছরের আগে পাটের সর্বোচ্চ মূল্য উঠেছিল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। কিন্তু গত বছর সর্বোচ্চ ছয়-সাত হাজার টাকা দরেও পাটের মণ বিক্রি হয়েছে।

ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষকরাও পাট চাষের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের যত জমিতে পাট চাষ হয়, তার এক তৃতীয়াংশ হয় বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায়। তবে মন্দার কারণে কৃষকরা পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর থেকে ভালো দাম পাওয়ার কারণে আবার পাটের চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

ফরিদপুরের একজন কৃষক হারুন-অর-রশীদ গত বছর পর্যন্ত যে জমিতে ধান চাষ করেছেন, এই বছর সেখানে পাট লাগিয়েছিলেন।

''গত বছর পাট বিক্রি করে অনেকে লাভ করেছে দেখে এইবার আমিও লাগাইছি। দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম, বিক্রি করে ভালো লাভ হইছে। অনেক বছর পর আবার আমরার জমিতে পাট চাষ হইল,'' বলছিলেন মি. রশীদ।

পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় দেশ হলেও পাটের বর্তমান বিশ্ব বাজার দখল করছে ভারত।

বাংলাদেশে উৎপাদিত এসব পাটের কাঁচামাল ভারতেই সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় এবং বিদেশি ক্রেতারা এই পণ্যগুলো ভারতের কাছ থেকে কিনে থাকে।

পাট খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানির পাশাপাশি অবৈধ পথেও পাট পাচার হয়ে যায়।

পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারক ইসরাত জাহান চৌধুরী বলছেন, “পাটের এত দাম বৃদ্ধির একটা কারণ একটা অসাধু মহল পাট মজুত করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আরেকটা কারণ হলো আমাদের পাশের দেশে 'আনঅফিসিয়াল'ভাবে বেশ কিছু পাট চলে গেছে। যে কারণে আড়াই হাজার টাকার পাটের মণ ছয় হাজার টাকায় পৌঁছেছে।”

দাম বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় মিল মালিকরা

গত বছর পাটের দাম বৃদ্ধির পর রপ্তানিকারকরা ছয় হাজার টাকা মণের বেশি দরে পাট কিনেছেন। তাতে অনেক কৃষক এই বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

তবে রপ্তানিকারকদের আশংকা পাটের দাম এরকম বেশি থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ইসরাত জাহান চৌধুরী বলছেন, ''পাটের বেশি দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের প্রোডাক্টের দাম বাড়াতে হয়েছে, কিন্তু রপ্তানি ভলিউম বাড়েনি। ফলে তারা সুইচ করে অন্য প্রোডাক্টে চলে যাচ্ছে। দামটা এরকম ওঠানামা করলে ভালোর চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।''

তিনি বলছেন, পাটের দাম একটি স্থিতাবস্থায় বেধে দেয়া সম্ভব হলে কৃষক ও ব্যবসায়ী- উভয়েই লাভবান হবে।

গত মাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি বৈঠকে ভারতে যাতে পাট পাচার বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে তারা অনুরোধ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাট দিয়ে এখন কী তৈরি করা হচ্ছে?

বাংলাদেশে পাট দিয়ে পাট সূতা, দড়ি, বস্তা, প্যাকিং সরঞ্জাম, ব্যাগ বা থলে, হাতে বাছাই করা আঁশ, পাটজাত কাপড় বহুদিন ধরে তৈরি হয়।

এখন সেই সঙ্গে পাটের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। পাটের তৈরি টব, খেলনা, জুট ডেনিম, জুয়েলারি, ম্যাটস, নারী-পুরুষের জুতা স্যান্ডেল, বাস্কেট, পাটের শাড়ি, পাঞ্জাবি ও পাটের তৈরি গৃহস্থালি নানা সরঞ্জামের বিদেশে চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রধানত আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোয় এই জাতীয় পণ্য রপ্তানি করা হয়।

আফ্রিকান দেশগুলো বস্তা ও পাটজাত দড়ি বেশি রপ্তানি হয়।

পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িরও একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব পণ্য দিয়ে পার্টিকেল বোর্ড, কম্পোজিট, সেলুলয়েডে ব্যবহার হয়।

বেসরকারি খাত পাট পণ্য তৈরি ও রপ্তানি করলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল লোকসানের কারণে গত বছরের পহেলা জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।

Share if you like

Filter By Topic

More News

ই-কমার্সে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে যাচ্ছে আরও আড়াই হাজার টন ইলিশ

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা

কোভিড-১৯ টিকার উৎপাদন বাড়লেও অসাম্য দূর হচ্ছে না

ধনী দেশগুলোতে মজুত থাকা ২৪ কোটি টিকা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে

‘১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করায় কিশোর অপরাধ দমন বিঘ্নিত হচ্ছে’

মুনিয়া হত্যা মামলায় আগাম জামিন চান বসুন্ধরার এমডি আনভীর

করোনায় মে মাসের পর সর্বনিম্ন শনাক্ত ও মৃত্যু

ইভ্যালির রাসেলকে আর রিমান্ডে পেল না পুলিশ

আফগানিস্তান সঙ্কটের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী