Loading...
The Financial Express

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা-অসুবিধা

| Updated: April 08, 2021 18:49:30


ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা-অসুবিধা

হালে তরুণ প্রজন্মের কাছে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ‘ফ্রিল্যান্সিং’ শব্দটির সহজ বাংলা মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করা। তবে সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং বলতে বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনে চুক্তিভিত্তিক কাজকেই বোঝানো হয়। একে আউটসোর্সিংও বলা হয়ে থাকে। যা-ইহোক, বর্তমান বিশ্বে এই শব্দ দু’টির সঙ্গে প্রায় সবাই পরিচিত। অনলাইনে কাজ করে টাকা উপার্জনের অন্যতম এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা অনেক।
বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ সময়ে ঘরে বসে কাজ করে অনেক শিক্ষার্থীও স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের অনেক সুবিধা যেমন আছে, তেমন অসুবিধাও আছে।
 
প্রথমেই চোখ বোলানো যাক সুবিধাগুলোয়।

ব্যক্তি স্বাধীনতা

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এতে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়। প্রথমত, দিনের যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে বসে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া যায়। তা ছাড়া নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজও বেছে নেওয়া যায়। অনেক সময় অফিসে কাজ করতে গেলে দেখা যায়, এমন অনেক কাজ করতে হয়, যার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মীর ইচ্ছা, আগ্রহ কিংবা অভিজ্ঞতা কিছুই থাকে না, তবুও বাধ্য হয়ে কর্মীকে সেটি সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে এমনটা করা লাগে না। ব্যক্তি তার ইচ্ছা অনুযায়ী চাইলে কোনো কাজ করতেও পারে, আবার চাইলে সেটি বাদও দিতে পারে। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সিংয়ে ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ দাবি করা যায়।

একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ

সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী এক সঙ্গে একাধিক জায়গায় কাজ করার সুযোগ পান না। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং যাঁরা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এই সুবিধার পেছনে অন্যতম কারণ, ফ্রিল্যান্সিং মূলত চুক্তিভিত্তিক কাজ। যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ করে দিতে পারলেই হয়। যে কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ এক সঙ্গে করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে।

দলভিত্তিক কাজের সুযোগ

সাধারণত কোনো অফিসে কাজ করলে একটি কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সেটি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মীকে একাই করতে হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে সে ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা। কেউ চাইলে তার কাজ ভাগ করে নিতে পারে। একটি কাজ একাধিক ব্যক্তি সম্পাদন করতে পারে। একেক অংশ একেকজন করতে চাইলে সেটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে করা সম্ভব।


অংশীদারহীন আয়

ফ্রিল্যান্সিংয়ের আরও একটি বড় সুবিধা হলো, কাজ থেকে যা আয় হয়, তার পুরোটাই পাওয়া যায়। এখানে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আয়ের ভাগ দিতে হয় না। যে প্রতিষ্ঠানের কাজ, সে প্রতিষ্ঠান সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মীকেই বিনিময়মূল্য পরিশোধ করে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা অনেক, আর তাইতো এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছে এই পেশার বিস্তৃত ক্ষেত্রটি। তবে তা বলে কি অসুবিধা নেই একেবারেই? চলুন, দেখে নেওয়া যাক।

কাজের স্থায়িত্ব ও আয়ের ধারাবাহিকতার সংকট

ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট পরিসর নেই। কখনো অনেক কাজ থাকতে পারে, আবার কখনো কাজের পরিমাণ কমও হতে পারে। এতে করে যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাঁদের আয়ের ধারাবাহিকতা থাকে না। আর সব সময় একইরকম পেমেন্টের কাজও থাকে না। এতে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ সংকটে পড়তে পারে।

পেমেন্ট নিয়ে ঝুঁকি

ফ্রিল্যান্স বিশ্বে এমন অনেকে আছেন, যারা কাজ করিয়ে নিয়ে পেমেন্ট দেন না। যেহেতু এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একে অপরকে না চিনেই কাজ করতে হয়, ফলে পেমেন্ট নিয়ে ঝুঁকি থাকেই। ফলে একধরনের স্পষ্ট পেমেন্ট পাওয়া না পাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাঠে নামতে হয়।

শারীরিক ক্ষতি

ফ্রিল্যান্সারদের মূলত দিনের বেশির ভাগ সময়ই কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয়। যে কারণে শরীরের ওপর নানা দিক থেকে চাপ পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, স্ট্রেস ইনজুরিতে পড়ার সম্ভাবনা, মুটিয়ে যাওয়া সহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার ফলে কোমরে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হতে পারে। এমনকি অধিক সময় ডিজিটাল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের নানা ধরনের অসুখও হতে পারে।

বোনাসবিহীন চাকরি

অন্যান্য প্রায় সকল চাকরিতে কর্মজীবীরা বিভিন্ন উপলক্ষে বছরে বেতনের সঙ্গে এক বা একাধিক বোনাস পান। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে এর কোনো সুযোগ নেই। বিপরীতে বিশেষ কোনো দিবসেও ফ্রিল্যান্সারদের কাজ করা লাগতে পারে। কেননা নির্দিষ্ট দিনে কাজ শেষ করতে না পারলে ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট আটকে যায়।

মানসিক সমস্যা তৈরির সম্ভাবনা

ফ্রিল্যান্সারদের দিনের বেশির ভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে বা একলা ঘরে কাজ করতে হয়। এতে তাদের মাঝে একধরনের একাকিত্ববোধের সৃষ্টি হতে পারে। একাকিত্ববোধ থেকে আবার বিষণ্নতারও সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া কোনো কারণে প্রজেক্টের কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ কাজের জন্য কখনো কখনো ফ্রিল্যান্সারকে তার পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার কর্তৃপক্ষ নেয় না। আবার নিয়মিত কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে ফ্রিল্যান্সারদের যে প্রোফাইল থাকে, তাতে খারাপ রিপোর্ট পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে ফ্রিল্যান্সারদের রেটিং কমে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে কাজ পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়।

সর্বোপরি ফ্রিল্যান্সারদের যেমন একদিকে বেশ কিছু সুবিধা আছে, তেমন নানা দিক থেকে অসুবিধা বা ঝুঁকিও আছে। তাই যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাদের এসব মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসা উচিত।


ফরহাদুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত।

ই-মেইল: farhadrahman 702 @gmail. com

Share if you like

Filter By Topic

-->