Loading...
The Financial Express

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে প্রথম তিন বছরে কোন আয় হয়নি

| Updated: May 15, 2022 19:23:59


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে প্রথম তিন বছরে কোন আয় হয়নি

দুই হাজার আঠারো সালের ১১ই মে রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়।কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ছিল মহাকাশে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেয়ার মিশন।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ তৈরি এবং উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল, যা উৎক্ষেপণের সময় বলা হয়েছিল, পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে তুলে আনা সম্ভব হবে।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা কারণে উৎক্ষেপনের প্রথম তিন বছরে স্যাটেলাইটটি থেকে কোন আয় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে খরচ উঠে আসার যে প্রাথমিক হিসেব নিকেশ করা হয়েছিল, তাতে দেখা যাচ্ছে এই খরচ উঠতে আরো বেশি সময় লাগবে। খবর বিবিসি বাংলার।

স্যাটেলাইট থেকে আয় করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "চার বছরের মধ্যে প্রথম তিন বছরে আমরা নানা কারণে কোন আয় করতে পারিনি। কিন্তু আস্তে আস্তে আমরা আয় করতে শুরু করছি।"

বছরে ঠিক কী পরিমাণ আয় হচ্ছে স্যাটেলাইট থেকে সে বিষয়ে তথ্য দেননি শফিকুল ইসলাম।

তবে তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে স্যাটেলাইট থেকে যে আয় হয়, এর পরিচালন ব্যয় হিসেবে তার এক দশমাংশের চাইতেও কম খরচ হয়। টাকার অংকে সেটি কত সেটি উল্লেখ করেননি তিনি।

আয় করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করতে না পারার ব্যর্থতা র কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এটি যখন উৎক্ষেপণ করা হয়, তখন বাজারে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের যে দাম এবং সরবরাহ ছিল, সেখানে অনেক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

আর সে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ, যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারটি ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

"এজন্য এখন আমরা দেশের ভেতরে নতুন বাজার মানে কাজের ক্ষেত্র খুঁজে বের করছি, যাতে এটা লাভজনক করা যায়।" দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিবেশী অনেক দেশেরই এখন স্যাটেলাইট আছে, যে কারণে ব্যান্ডউইথের দাম এবং সেবায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

তবে যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণ করা হয়, তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে বলে দাবি করছেন শফিকুল ইসলাম।

স্যাটেলাইট স্থাপনের সময় যেসব উদ্দেশ্য ছিল, তার মধ্যে প্রধান ছিল দেশের দুর্গম অঞ্চলে যেসব এলাকায় ফাইবার অপটিকাল কেবল নেয়া যায় না বলে টেলিফোন সার্ভিস বা ব্যান্ডউইথ দেয়া সম্ভব হয় না, সেসব জায়গায় টেলিযোগাযোগ স্থাপন করা।

শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে দেশের ৩১টি দ্বীপে ১১২টি ভিস্যাট স্থাপন করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট যোগাযোগ স্থাপন করা গেছে।

এছাড়া দেশের সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে এখন এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্রডকাস্ট সার্ভিস বা সেবা দেয়া হচ্ছে। দেশের ৩৩টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল যারা আগে বিদেশি স্যাটেলাইট থেকে ব্যান্ডউইথ নিত, ২০১৯ সাল থেকে তারা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নিচ্ছে।

সফলতার আরেকটি উদাহরণ হিসাবে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, "এই স্যাটেলাইটের পরিচালনায় এখন বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরাই শতভাগ কাজ করছে। এটা অনেক বড় অর্জন আমাদের, যেহেতু এক্ষেত্রে আমাদের জিরো নলেজ ছিল।"

তবে, শুরুতে যেসব খাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি মেডিসিনের মত খাতে কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে কোভিডের কারণে দেশের প্রাধান্য ছিল মহামারি মোকাবেলা। সেকারণে এসব খাতে কাজ পিছিয়ে গেছে। কিন্তু টেলি মেডিসিন এবং শিক্ষা খাতে খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকেরা কী বলছেন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া প্রকল্প হলেও সেটি আশানুরূপ সফলতার মুখ দেখেনি বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ এবং লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাইয়িদ খান মনে করেন, আর্থিকভাবে লাভজনক না হতে পারা এবং প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়াই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান ব্যর্থতা।

তবে বাণিজ্যিক সফলতা বা অসফলতার চাইতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে জবাবদিহিতার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না কেন? স্যাটেলাইট থেকে আমরা কত টাকা আয় করেছি, আমাদের অরবিট মানে কক্ষপথের ভাড়া কত, কিভাবে সে অর্থ আমরা পরিশোধ করি সেসব তথ্য কেন জানানো হয় না? এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা না থাকলে আর্থিকভাবে সফল হওয়া যাবে না।"

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে না পারাকেও বড় ব্যর্থতা বলেও মনে আবু সাইয়িদ খান।

তিনি মনে করেন, "স্যাটেলাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটি পরিচালনায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব, যারা খুঁজে বের করবে প্রতিযোগিতায় কেন ফেইল করছি আমরা।"

Share if you like

Filter By Topic