Loading...
The Financial Express

বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসা চু‌ক্তি‌তে অ্যান্টি-ডাম্পিং অন্তর্ভূ‌ক্তি‌তে আগ্রহী নয় ভারত

| Updated: February 26, 2021 21:48:58


বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসা চু‌ক্তি‌তে অ্যান্টি-ডাম্পিং অন্তর্ভূ‌ক্তি‌তে আগ্রহী নয় ভারত

ভারত আবারও প্রস্তা‌বিত বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসা বিষয় চুক্তিপত্রে অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছে।

এমন‌কি অ্যান্টি-ডাম্পিং বিষয়ে ‘প্রি-ইনিশিয়েশন কনসাল্টেশন’ বা প্রারম্ভিক পরামর্শের মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প প্রস্তাবেও ভারত রাজি হয়নি।

বিচার বিভাগীয় বিষয় হওয়ার কার‌ণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এর প্রথম খসড়ায় অ্যান্টি ডাম্পিং সম্পর্কিত কোনো শর্ত রাখার বিষয়ে ভারত অস্বীকৃতি জানায়।

বা‌ণিজ‌্য মন্ত্রণাল‌য়ের কর্মকর্তারা জানান, পরে বাংলাদেশ এমন প্রস্তাব করে যে সমঝোতা স্মারকের যেকোনো পক্ষ অ্যান্টি-ডাম্পিং সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আগে অন্য পক্ষের সাথে পরামর্শ করে নেবে, এমন একটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা একটি চিঠিতে ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সময় তারা এ চু‌ক্তি‌টি স্বাক্ষর কর‌তে চায়। ত‌বে তারা সেখা‌নে ‘প্রারম্ভিক পরামর্শে’র মতো কোনো শর্ত চায় না।

বাণিজ্য কর্মকর্তাদের মতে, ভারত বরাবরই অ্যান্টি ডাম্পিং ইস্যুকে বিচার বিভাগীয় বিষয় বলে দা‌বি ক‌রে এবং এ নিয়ে আলোচনায় অনীহা প্রকাশ করে, যে কারণে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছ‌ে বহু বছর যাবত।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, যদি প্রারম্ভিক পরামর্শের শর্তটি চুক্তির সমঝোতা স্মারকে রাখা যায় তবে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষই অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের আগে পরামর্শ করতে বাধ্য থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “স্মারকে বিধানটি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দ্রুত পরামর্শের মাধ্যমে অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের মামলাগুলো এড়ানো যায়”।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বাংলা‌দেশ ট্রেড ‌এ‌্যান্ড ট‌্যা‌রিফ কমিশনের মতামত জানতে চাইলে কমিশন শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আরও চেষ্টা করার সুপারিশ করে।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধার পাশাপাশি ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং সংক্রান্ত পদ‌ক্ষেপসমূহও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য কর্মকর্তারা।

বর্তমানে বাংলাদেশ কিছু পণ্যের উপর ভারতের আরোপকৃত বাড়তি শুল্কের ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন) বিধি অনুসারে আলোচনা চালাচ্ছে।

তারা মনে করেন, বহুপাক্ষিক পরিসরে না গিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বাড়তি শুল্কের ব্যাপারটি দ্রুত সমাধান করা যাবে।

একজন বাণিজ্য কর্মকর্তা বলেন, “অ্যান্টি-ডাম্পিং এর বিষয়‌টি অন্তর্ভূক্ত না করে বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসা চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক হবে না”।

বর্তমানে বাংলাদেশের তিনটি রপ্তানি পণ্যের উপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এগুলো হলো- পাটজাত দ্রব্য, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এবং মাছ ধরার জাল।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে, বাংলা‌দে‌শের পাটজাত সুতা, চট ও ব্যাগের উপর টনপ্রতি ১৯ থেকে ৩৫২ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভা‌রত। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ঠিক একইভাবে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানিকৃত হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের উপর টন প্রতি ২৭.৮১ থেকে ৯১.৪৭ মার্কিন ডলার সমমূল্যের শুল্ক আরোপ করে।

২০১৮ সালে ভারত কেজি প্রতি ২.৬৯ মার্কিন ডলার ‌অ‌তি‌রিক্ত শুল্ক আ‌রোপ ক‌রে মাছ ধরার জালের উপরও ।

কর্মকর্তারা বলেন, বহুবার আলোচনা করেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলে, এমন ধরনের শুল্কগুলো ভারত প্রত্যাহার করেনি।

এর আগে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ডক্টর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি অনুসারে স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) বাড়তি শুল্কের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু সুবিধা ভোগ করে থাকে।

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও এ সুবিধা ভোগ করা উচিত। এমনকি ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশ এ সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এখন ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরে কোনো তাড়াহুড়া করা উচিত নয়, বরং এলডিসি উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধানগুলো কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা জানার অপেক্ষা করা উচিত।"

Share if you like

Filter By Topic

-->