Loading...
The Financial Express

রোজিনা এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

| Updated: May 18, 2021 18:43:13


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ‘নির্যাতন করা হয়নি’ দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রথম আলোর ওই জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হতে পারত।

সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য এল। 

রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এদিন বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) তা বর্জন করে।

পরে দুপুরে আগারগাঁওয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালিক বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু তিনি শুনেছেন, তাতে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকে ঢুকেছিলেন রোজিনা।

 “ওখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলতেছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকাইছে, শরীরেও ঢুকাইছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা আসেছে, এসে তারা ধরছে যে ‘আপনি কেন এইসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিছে।

“এর মধ্যে পুলিশে খবর দিছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আসছে, তারা এটা টেকওভার করছে। প্লাস মোবাইলটাও নিছে, মোবাইলেও অনেক ছবি পাইছে।”

সোমবার দুপুরের পর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

এজাহারে বলা হয়েছে, রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।

সেই প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই জিনিসটাও দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সাথে টিকার চুক্তি করছি,  চায়নার সাথে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন ডিসক্লোজার আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি, আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না।

 “তো সেইগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম, এবং আমরা টিকা নাও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয় নাই।”

রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু।

ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, “যেটা শুনলাম, তাকে অনেকক্ষণ আটকাইয়ে রাখছে। এটা পুলিশ ছিল… সে নিজেই শুয়ে পড়ছে, বসে পড়ছে। তাকে নিতে পারছিল না। শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। এটা সঠিক নয়।”

রোজিনা ইসলাম ওই অফিস থেকে কোনো নথি সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় এখন ‘অন্যায়ের’ শিকার হচ্ছেন এই সাংবাদিক।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির রিপোর্টিংয়ের জন্য তো আজকের ঘটনা না। ওটা ওখানের ঘটনার, এর উপরই পরবর্তী ঘটনা ঘটতেছে।”

তিনি বলেন, “সিনিয়র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি লেভেলের দুইজন ছিল, প্রাথমিকভাবে তারাই ডিল করছে। পরে যখন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় আসছে, তখন তারা পুলিশ ডেকেছে।”

বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার নিয়ম করেছে, সেখানে রোজিনার বিরুদ্ধে কেন ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা দেওয়া হল- সেই প্রশ্ন রেখেছিলেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো আইনজ্ঞ না। আইনের বিষয়ে কিছু বলব না।”

Share if you like

Filter By Topic