Loading...
The Financial Express

শিশুদের নতুন বই বড়দেরও মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা দিনগুলোর কথা


শিশুদের নতুন বই বড়দেরও মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা দিনগুলোর কথা

জানুয়ারি মাস মানেই নতুন বই পাওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটি নতুন শ্রেনীতে পদার্পণ। শৈশবের সেসব আনন্দমুখর স্মৃতিগুলো বড় হওয়ার পরও মনে দাগ কাটে সবসময়।

ডিসেম্বরে বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ছুটি পায় শিক্ষার্থীরা। ছুটির পর নতুন বছরে নতুন শ্রেণিতে উঠার আনন্দ বেশ ভালোই টের পাওয়া যায় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে। আর এসময় নতুন বই পাওয়ার বিষয়টি যেন সে আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, চট্টগ্রামের মুরাদপুর শাখায় বিনিয়োগ বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মুহাম্মদ মাহফুজ ইবনে কবির।

শৈশবের নতুন বই পাওয়ার সেসব স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে। বর্তমানের মতো এত ঘটা করে বই উৎসব তখন না থাকলেও নতুন বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে গ্রামের মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হতো বহুল প্রত্যাশিত নতুন বই।”

“আমার আগের ক্লাসে আমার চাচাতো ভাই পড়তো। তাই নতুন বইয়ে কোন কোন বিষয়গুলো থাকবে তা আমি আগে থেকেই জেনে যেতাম। বই নিয়ে বাড়ি আসার পথে বারবার সেসব নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতাম যা এখনো মনে পড়ে।”

তিনি আরো বলেন, “নতুন বইয়ের পৃষ্ঠায় থাকা রঙবেরঙয়ের ছবিগুলো বেশ নজর কাড়ত। তাছাড়া তখন গ্রামে বিদ্যুত ছিল না, তাই হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হতো। পাশাপাশি মা কিংবা বড় বোনের সহযোগিতায় পুরোনা ক্যালেন্ডার বা খাকি রঙের ঠোঙ্গা কেটে বইয়ের মলাট বাঁধানোর স্মৃতিও মুছে যায়নি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহারুল ইসলাম। তার কথাতেও ফুটে ওঠে শৈশবের সেসব দিনগুলোর স্মৃতি।

“যখন নতুন বই ঘরে নিয়ে আসতাম তখন প্রথম কয়েকদিন এগুলোর খুব যত্ন করতাম। এমনকি কাউকে খুব বেশি ধরতেও দিতাম না বই ছিঁড়ে যেতে পারে এ ভয়ে। আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো বাংলা এবং ইংরেজি বইয়ের কবিতাগুলো। তাই প্রথমেই সেগুলো পড়ে ফেলতাম।”

নতুন বই পাওয়ার আনন্দ জাহারুলের পড়ার আগ্রহকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতো। নতুন গল্পগুলো পড়ে ফেলার তাড়নায় প্রথম কয়েকদিন পড়ার টেবিল থেকে উঠতেই মন চাইতো না।

“বইগুলো বারবার উল্টিয়ে দেখতাম এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো পড়তাম। এখন সেসব কথা মনে পড়লে ভাবি যদি আবার সে সময়গুলো ফিরে পেতাম!” যোগ করেন জাহারুল।

আইরিন আক্তার সূচনা বর্তমানে ঢাকার কাজী নজরুল সরকারী কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। শৈশবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের স্কুলে জানুয়ারির মাঝামঝিতে বই দিত। নতুন বছর, নতুন বই, আর বইয়ের পাতার ঘ্রাণ- সবকিছুই ছিল অন্যরকম ভালো লাগার বিষয়। দেখা যেত নতুন বই পাওয়ার আনন্দে এক বসাতেই ২০-৩০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলতাম, যা এখন আর হয়ে উঠে না।”

আইরিনের বইগুলো তার বাবা পুরাতন ক্যালেন্ডার দিয়ে বেঁধে দিতেন। আর এই বই বাঁধানো নিয়েও হয়ে যেত এক দফা প্রতিযোগিতা।

“তখন কার বই আগে বাঁধবে তা নিয়ে আমাদের তিন ভাই-বোনের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেত। আবার স্কুলেও কার বইয়ের মলাট বাঁধার কাজটি আগে শেষ হয় এ নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা দেখা যেত।”

তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

[email protected]

Share if you like