Loading...
The Financial Express

শেষের পথে বড় প্রণোদনাগুলো

| Updated: March 03, 2021 21:34:57


বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবিঃ রয়টার্স বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবিঃ রয়টার্স

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল একটি খাত বাদে কোনো প্রণোদনা প্যাকেজই এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি, যদিও এর সময়সীমা ৩১ মার্চ।

তৈরী পোশাক খাতের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজটি সম্পূর্ণভাবে এর শ্রমিক ও কর্মীদের বেতন ভাতা প্রদানের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরিকৃত একটি নীতিমালা সম্পর্কিত প্রতিবেদনে উক্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘চিফ ইকোনোমিস্ট ইউনিট’ এর তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশ করেন গভর্নর ফজলে কবির। এটি উৎসর্গ করা হয় কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মহামারির বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সরকার এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে নয়টির সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক জড়িত।

এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শস্য ও ফসলি খাতে ৪ শতাংশ ছাড় সুদে কৃষিঋণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি তথ্য থেকে দেখা গেছে যে, বৃহৎ শিল্প ও পরিষেবা খাতের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজের প্রায় সবটাই শেষের পথে। অন্যদিকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝারি, কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

এই সময়ের মধ্যে শিল্প ও পরিষেবা খাতের বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৩ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন হার ৯১.৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য শিল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যা মোট প্রণোদনার ৫৮ শতাংশ।

এছাড়াও ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মহামারিতে বিপর্যস্ত ৮৩ হাজার ৩১৯টি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের জন্য প্রায় ১৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা ঋণ প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মহামারি আক্রান্ত অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ব্যাংককে ৩১ মার্চের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ নির্দেশিত খাতে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও অন্যান্য ব্যাংকারদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল সভায় গত ২৭ জানুয়ারি এ নির্দেশনা আসে।

গভর্নর তাঁর বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্দা মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতিমালার সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিস্তৃত সহায়ক আর্থিক নীতিমালা ও সম্প্রসারণশীল মুদ্রানীতি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের জীবিকা নির্বাহের পথকে চলমান রাখতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটানো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড: মো: হাবিবুর রহমান তাঁর সম্পাদকীয় বক্তব্যে বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে জনগণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আর্থিক মন্দা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিস্তৃত আকারে জরুরি সহায়তা পাবে। এছাড়াও অরক্ষিত জনগণ তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর পরিমাণ বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

“ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অবশ্যই এর কৃতিত্বের দাবিদার সরকারের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে গৃহীত প্রণোদনা প্যাকেজ। এছাড়াও কৃতিত্ব রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের, তার বিস্তৃত ও সহায়তামূলক নীতিমালা গ্রহণের জন্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এসব সহায়তামূলক নীতিমালার পাশাপাশি ইতোমধ্যে শুরু হওয়া কার্যকরী টিকাদান কর্মসূচীর কারণে আমরা আশা করতে পারি যে বাংলাদেশর অর্থনীতি শীঘ্রই তার আগের প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসবে।”

Share if you like

Filter By Topic

-->