Bangla
a year ago

হীনম্মন্যতা: কী, কেন ও যেভাবে কাটাবেন

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

Published :

Updated :

ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স বা হীনম্মন্যতা হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম যোগ্য মনে করেন। তার আত্মসম্মানের অভাব থাকে এবং শারীরিক বা মানসিক ঘাটতিগুলোর কারণে নিজেকে অপর্যাপ্ত বোধ করেন। প্রায়শই অন্যের সাথে তুলনা থেকে এর উৎপত্তি হয়, যা একটি নেতিবাচক দিকে পরিচালিত করে ব্যক্তিকে। 

শৈশবের অভিজ্ঞতা, সামাজিক তুলনা এবং ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার মতো কারণগুলোর কারণে হতে পারে এবং ব্যক্তিগত কৃতিত্বের উপর ফোকাস করে থেরাপি, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং নেতিবাচক কথোপকথনকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে এর সমাধান করা যেতে পারে।

হীনম্মন্যতায় ভোগা ব্যক্তিরা অপর্যাপ্ততা (নিজেকে অপর্যাপ্ত ভাবা) এবং নিরাপত্তাহীনতায় অবিরাম ভুগতে থাকেন, প্রায়শই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা থেকেই এর উৎপত্তি।

জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ এডুকেশন অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের একজন অধ্যাপক ডিন মার্টিন ই. ফোর্ড স্পষ্ট করে বলেছেন যে, হীনম্মন্যতা অনুভবের মূল কারণ হলো আপনি হীনম্মন্যতার অনুভূতির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছেন এর ওপর।

সেসব অনুভূতি কি আপনার লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে আপনাকে উৎসাহিত করে? জেদি করে তুলে? নাকি তারা ঈর্ষার অনুভূতি সৃষ্টি করে? নিজের সম্পর্কে ভালো বোধ করার জন্য অন্যদের সমালোচনা করার প্রবৃত্তি হয় তখন? যখন একটি নেতিবাচক চিন্তা একটি প্যাটার্নে পরিণত হয়, তখনই হীনম্মন্যতা শব্দটি প্রযোজ্য হতে পারে।

হীনম্মন্যতার কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানীরা যা মনে করেন

শৈশবে ঘন ঘন সমালোচনার শিকার হওয়া, ভাইবোনদের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলনা হওয়া বা অবহেলার অভিজ্ঞতা হীনম্মন্যতায় অবদান রাখতে পারে।

এছাড়া ক্রমাগত নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করা এবং অন্যদের দ্বারা তুলনার শিকার হওয়া, প্রায়শই জীবনের বিভিন্ন দিকগুলোতে অন্যদের তুলনায় বাজে হিসাবে বিবেচিত হওয়াও হীনম্মন্যতায় অবদান রাখে।

শারীরিক আকার বা চেহারা সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন বোধ করাও একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া জীবনে ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যানের অতীত অভিজ্ঞতা নিজেকে নিয়ে অপর্যাপ্ততার অনুভূতিতে অবদান রাখতে পারে যা শেষপর্যন্ত হীনম্মন্যতায় পরিণত হয়।

হীনম্মন্যতার উপসর্গ

হীনম্মন্যতার উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা করা। কেউ প্রশংসা করলে অস্বস্তি বোধ করা। সমালোচনার ভয়ে সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা। ঝুঁকি নেওয়া বা লক্ষ্য অনুসরণ করতে অসুবিধা হওয়া বা ভয় পাওয়া। একজন বহিরাগতের মতো অনুভব করা সবসময়, এছাড়া এরকম অনুভব করা যে কোথাও খাপ খেতে পারছে না।

যেভাবে হীনম্মন্যতা কাটিয়ে ওঠা যায়

সাইকো থেরাপি যাকে সাধারণত থেরাপিও বলা হয় হীনম্মন্যতা কাটানোর বেশ ভালো একটি উপায়। থেরাপিস্টের সাথে কথা বলার সময় তিনি আপনাকে সমালোচনা, আত্মসম্মানহীনতা এবং ট্রমা নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারবেন। 

থেরাপিস্টের সাথে সেশনে শৈশবের যেসব মূল কারণ থেকে হীনম্মন্যতার জন্ম দিয়েছে তা নিয়ে কথা বলে এ থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যেতে পারে। তবে এই ধরনের কথোপকথনগুলো সাধারণত খুব কঠিন হয় এবং মন খুলে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ হতে পারে তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে থেরাপিই সবচেয়ে উপকারী।

মেডিটেশন ও জার্নালিং

থেরাপির পাশাপাশি মেডিটেশন ও জার্নালিংও সাহায্য করতে পারে হীনম্মন্যতা দূর করতে। মেডিটেশনের ফলে মনে একাগ্রতা আসবে। অন্যদিকে জার্নালিং করার সময় নিজেকে নিয়ে ছোটখাটো ইতিবাচক বিষয় লিখে রাখা হলে তা সাহায্য করবে হীনম্মন্যতা কাটাতে।

নিজেকে ভালোবাসুন

হীনম্মন্যতা কাটানোর জন্য নিজেকে ভালোবাসার মতো ঔষধ আর বোধহয় নেই। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন, নিজেকে সময় দিন, নিজেকে একটু হলেও প্রশংসা করুন। আপনিও যে একজন মানুষ আর সবার মতো, এবং নিজেকে নিজে ভালোবাসার যোগ্য তা ভাবুন।

ভালো বন্ধু নির্বাচন করুন

আপনার চারপাশে ইতিবাচক মানুষ দিয়ে নিজেকে ঘিরে রাখা একটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করবে। নেতিবাচক মানুষ যারা অযথা সমালোচনা করে তাদের থেকে দূরত্ব তৈরি করে ইতিবাচক মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন যারা আপনার বিপদের সময় হাসি তামাশা না করে আপনাকে সাহায্য করবে।

প্রত্যেকেরই কিছু বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে তাই বলে এমন কোন কারণ নেই যে একজনকে অন্যজনের তুলনায় কম আত্মবিশ্বাসী হতে হবে বা হীনম্মন্যতায় ভুগতে হবে। হীনম্মন্যতা এমন কোন রোগ নয় যার থেকে মুক্তি নেই বরঞ্চ একটু চেষ্টা করলেই সম্ভব এ থেকে বেরিয়ে আসা এবং একটি সুখী ও আত্মবিশ্বাসী জীবন যাপন করা।

samiulhaquesami366@gmail.com

Share this news