Loading...
The Financial Express

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পর যা হারাব, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পাবঃ অর্থমন্ত্রী

| Updated: March 04, 2021 19:33:48


উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পর যা হারাব, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পাবঃ অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পর বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা কমে এলেও তাতে শঙ্কার কিছু দেখছেন না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি আমরা যা হারাব, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পাব,” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সব শর্ত পূরণ হওয়ায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপি।

ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলো এতোদিন স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় বাংলাদেশে যেসব বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধা দিত উত্তরণের ফলে সেগুলো কমে আসবে। দেশের অর্থনীতিবিদরাও এ বিষয়ে সরকারকে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এতদিন আমরা ছিলাম স্বল্পোন্নত দেশ, এখন চলে আসছি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। জাতি হিসাবে আমরা গৌরবান্বিত। এই অর্জনে এদেশের সব মানুষের অবদান আছে।”

তার মতে, এই উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের শক্তি আরও বাড়বে।

 “অর্থনীতিতে আমরা আরও শক্তিশালী হবো। দিন দিন আমাদের অবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।“

তিন বছর পর্যবেক্ষণকাল ধরে ২০২৪ সালেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের অনুরোধে প্রস্তুতিমূলক এই সময় দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সাল করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অনেক কষ্ট করে একটা দেশ গ্র্যাজুয়েশন করে। গ্র্যাজুয়েশন করার পর একটা দেশের সব সুযোগ সুবিধাগুলো যদি কেড়ে নেওয়া হয়। তাহলে আবার সে আগের অবস্থায় ব্যাক করতে পারে। তো আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখতে একটা বাড়তি সময় দেওয়া উচিত।

 “আমি এই প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম। তারাও সেদিন আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে এটা অত্যন্ত ভালো প্রস্তাব। আমরা আগে এটা এভাবে চিন্তা করি নাই। আমরা অবশ্যই এটা মাথায় রাখব। সেভাবেই আমরা সময় বাড়িয়ে নিয়েছি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “গ্র্যাজুয়েশন যখন হয়, তখন এক স্তর থেকে অরেক স্তরে যাওয়ার কারণে অনেক সুযোগ সুবিধা কমে যায়, বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আগে যে সুযোগ সুবিধাগুলো ছিল, সেগুলো কাজে লাগাতে আরও কিছু সময় দরকার। সেজন্য বাড়তি সময়টুকু চেয়ে নিয়েছি। যাতে করে এই সময়ের মাঝে নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারি, অ্যাডপ্ট করতে পারি, ইক্যুইপ্ট করতে পারি।”

উন্নয়নশীর দেশের কাতারে গেলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে বলে যে আশঙ্কা কেউ কেউ করছেন, তার সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। কারণ আমরা ১০০ ডলার রপ্তানি করলে তার পুরোটাই রপ্তানি নয়। সেখানে আমাদের ইনপুট থাকে হয়ত ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এটা আমাদের বুঝতে হবে।

 “আমি মনে করি, এই গ্র্যাজুয়েশনের জন্য, অবস্থান পরিবর্তনের জন্য আগের সমস্যাগুলো দূর হবে, আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতদিন পর্যন্ত যারা গ্রাজুয়েশেন করেছে, তারা সবাই কিন্তু লাভবান হয়েছে।

১৯৭১ সালে স্বল্পোন্নত দেশের সংখ্যা ছিল ২৫, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এ পর্যন্ত বতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ও ভানুয়াতু উত্তরণ ঘটাতে পেরেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখানে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা আফডিআই নেই। আমাদের এখানে বিনিয়োগের বিষয়ে আগে সবাই ভয়ে থাকত। বড় কোনো এলসি খোলার প্রয়োজন হলে আমাদের দেশের ব্যাংক থেকে আমরা সরাসারি খুলতে পারি না। অন্য কোনো বিদেশি শক্তিশালী ব্যাংক থেকে এনডোর্স করে নিতে হত। আমাদের এলসিগুলো অন্য দেশে বিশ্বাস করত না।”

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য এ জটিলতাগুলো কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

Share if you like

Filter By Topic

-->