Loading...
The Financial Express

করোনায় প্রাণহীন বৈশাখ

| Updated: April 14, 2021 16:35:12


করোনায় প্রাণহীন বৈশাখ

মহামারী করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছর প্রাণহীনভাবে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ।

প্রতিবছরের মতো এবার রাজধানীজুড়ে বৈশাখী মেলা তো হচ্ছেই না, নিয়মিত শপিংমল, গণ পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁও বন্ধ থাকছে।

বুধবার শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে আগামীকাল শুরু হচ্ছে রোজা।

অর্ধশতাব্দীরও বেশী সময় ধরে চলা রমনার বটমূলেও বৈশাখকে স্বাগত জানানো ছায়ানটের গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে না।

তবে অনলাইনে একটি অনুষ্ঠান করবে ছায়ানট, যেটি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে মানুষের মঙ্গল কামনা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে উজ্জীবনী গান, বাণী ও কথন দিয়ে।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানান, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালির প্রাণের এই ঐতিহ্যের মহোৎসবের পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে না পেরে তারা মর্মাহত।

"তারপরও আমরা সীমিত আকারে তা পালন করছি। আশা করছি সুদিন ফিরে আসবেই," তিনি বলেন।

বৈশাখী শোভাযাত্রাও বাতিল করা হয়েছে এবার।

গত সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকেও পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে  চারুকলার শোভাযাত্রা বাতিলের কথা জানানো হয়।

তবে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি শোভাযাত্রার মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

গতবছরের মতো এবারও বৈশাখী কেনাকাটা ঘিরে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বাংলা বছর ঘিরে গ্রামীন অর্থনীতিতে যে চাঙা ভাব আসে, তা কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে।

গ্রামীণ মৃৎশিল্প, কুটির শিল্প, নানারকমের ছোট ব্যবসায়ীদের বৈশাখ এবং ঈদ ঘিরে যে প্রস্তুতি থাকে শহুরে ক্রেতাদের লক্ষ্য করে তা পুরোই ভেস্তে যাচ্ছে মহামারীর কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর আমরা অসতর্ক হয়ে গিয়েছি। ধরে নিয়েছি, কিছুই হবে না।

"এ বিষয়ে কারোই কিছু করার নেই এখন। এখন সকলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিৎ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ," তিনি বলেন।

জনাব রহমান বলেন কৃষি এবং রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা রেখছে, কিন্তু শহরকে লক্ষ্য করে তাঁতী, মৃৎশিল্পী, ছোট ব্যবসায়ীদের যে সরবরাহ ব্যবস্থা, তা ভেঙে পড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন গ্রামীণ বৈশাখ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু ভাইরাস দমন ছাড়া সামনে এখন আর কোন লক্ষ্য থাকা উচিৎ নয়।

তবে প্রাণহীন উৎসবে এবারও নববর্ষ ভাতা পেলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আগে মূল বেতনের সমান হারে বছরে কেবল দু’টি উৎসব বোনাস দেওয়া হতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

এরপর ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামোতে প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু হয়।

এটি কার্যকর ধরা হয় ওই বছরের পহেলা জুলাই থেকে। সে অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পেয়ে আসছেন।

পাশাপাশি কিছু এমপিওভুক্ত স্কুল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিকপ্রতিষ্ঠান এবং অল্পকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ ভাতা দিয়ে আসছে।

[email protected]

 

Share if you like

Filter By Topic

-->