Bangla
a year ago

জ্বালানি, এলএনজি, সার আমদানি

বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার আইটিএফসি ঋণ চায়

Published :

Updated :

২০২৫ সালে জ্বালানি, এলএনজি এবং সার আমদানিতে অর্থায়নের জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) কাছ থেকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার কর্মকর্তারা বলেছেন, সে কারণে ব্যাংকোটির সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।  

তারা জানিয়েছে, সরকার সম্প্রতি আইডিবির বাণিজ্যিক উইন্ডো আইটিএফসি থেকে আগামী বছরের জন্য ঋণ চেয়েছে।

ইআরডি কর্মকর্তারাক জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরকারী আইটিএফসি (ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স) দলকে আগামী বছরে ক্রমাগত ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে। 

ইআরডির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, "আমরা ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আইটিএফসি-এর প্রতিশ্রুত বার্ষিক পোর্টফোলিও ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য প্রায় অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছি চেয়েছি। ঋণদাতা আমাদের অতিরিক্ত অর্থায়ন বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।" 

তিনি আরও বলেছেন, "আইটিএফসি দলের সাথে শেষ বৈঠকটি তহবিল প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য প্রাথমিক ধাপ ছিল। যদি তারা সম্মত হয়, আমরা পরের বছরের ঋণের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য শীঘ্রই আলোচনার জন্য যাব।" 

ইআরডির আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, বিগত কয়েক বছরে পূর্ববর্তী শেখ হাসিনার সরকার মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলির দাতাদের সাথে দুর্বল সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে আইএডিবি থেকে সহায়তা হ্রাস পেয়েছে। 

তিনি যোগ করেন, প্রস্তাবিত ঋণ সুরক্ষিত করা আইডিবি এবং বাংলাদেশের মধ্যে ভঙ্গুর বিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি ভাল পদক্ষেপ হবে। 

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি চুক্তির অধীনে জেদ্দা-ভিত্তিক আইডিবি-র আইটিএফসি ২০২৪ সালে বিদেশি বাজার থেকে জ্বালানী তেল এবং এলএনজি কেনার জন্য ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তহবিল সরবরাহ করেছে।

এখন সরকার সার কেনার জন্য আইডিবি থেকে তহবিল পেতে চাইছে কারণ বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কৃষি উপকরণের প্রয়োজন।

গত বছর (২০২৩) আইটিএফসি জ্বালানি আমদানির জন্য ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ঋণ প্রদান করেছে।

ঋণ চুক্তির আওতায়, আইটিএফসি পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলাকে অর্থায়ন করবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী,২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার পেট্রোলিয়াম জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যবহার করা হবে, বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার এলএনজির আমদানিতে খরচ হবে। 

জ্বালানি খাতে উপসাগরীয় (গালফ) ঋণদাতা আইটিএফসি-এর অন্যতম শীর্ষ ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ। আইটিএফসি অনুসারে, ২০২২ সালে তারা সর্বোচ্চ ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যাংকিং সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ জ্বালানি তেল, এলএনজি এবং সার বেশির ভাগই আমদানির ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি খরচ করে।

বাংলাদেশ প্রতি বছর উপসাগরীয় এবং অন্যান্য তেল সরবরাহকারী দেশগুলি থেকে পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে।

আইটিএফসি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য মোট প্রায় ১৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডোলার বাণিজ্য অর্থ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

ব্যাংকসহ বেসরকারি খাত মধ্যপ্রাচ্যের ঋণদাতার কাছ থেকে বাণিজ্য অর্থ নেয়।

২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধের সময়কাল এক বছরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ শতাংশ স্প্রেড যোগ করে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর) এর মাধ্যমে সুদের হার গণনা করা হবে। এই ২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদের হার এবং শুন্য দশমিক ২০ শতাংশ প্রশাসনিক চার্জ।

এই প্রশাসনিক চার্জ ঋণ মুক্তির আগে পরিশোধ করা আবশ্যক। প্রতিদিন ওঠানামা করা এসওএফআর ১০ অক্টোবর ছিল ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। 

সরকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, পেট্রোলিয়াম এবং এলএনজি সহ দেশের জ্বালানি আমদানির খরচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়া গত অর্থবছরের জন্য একই পরিমাণ অর্থ প্রত্যাশিত।

স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, বাংলাদেশ এভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ৮৩৬ দশমিক ৭৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে ১3 লক্ষ ৭ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। 

এছাড়াও বিপিসিr তথ্য দেখিয়েছে, এটি ৪৩ লক্ষ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১, এসকেও, মোগাস এবং এইচএসডি আমদানি করে; যেখানে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন বিদেশী সরবরাহকারীর কাছ থেকে মোট ৪৬,১৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ফার্নেস তেল ক্রয় করা হয়েছে।  

Share this news