
Published :
Updated :

বগুড়ার শেরপুরে জমি ও পুকুর দখল, চাঁদাবাজি এবং নিরীহ ব্যক্তিকে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা পরিচয় দানকারী শামীম ড্রাইভারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তার বাবা মৃত আব্দুল হাই দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। ওই জমির কিছু অংশ (৪ শতক) বিএনপি নেতা শামীম ড্রাইভারের কাছে বিক্রি করা হলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুরো জমি ও পারিবারিক পুকুর দখলে নেন।
তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে শামীম ড্রাইভার আমাদের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় জমি দখল করে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করেন এবং পুকুরটিও জোরপূর্বক দখলে নেন।”
শামীম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মেনানকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়। যদিও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে গোপালপুর মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত সালিশে তাদের পক্ষেই রায় আসে।
তবে এখানেই থেমে থাকেনি ভোগান্তি। শামীমের দাবি, এসআই আমিরুল তদন্তে গিয়ে তাদের গালিগালাজ ও অশালীন মন্তব্য করেন। পরে এসআই জাহিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার ছোট ভাই ওয়াসিম হোসেনকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং ১১ জুলাই তাকে আওয়ামী লীগ কর্মী সাজিয়ে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসিমের স্ত্রী শ্যামলী খাতুন ও তাদের সন্তানরা। তারা জানান, ওয়াসিম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো যুক্ত ছিলেন না, তিনি একজন নিরীহ মানুষ। শুধুমাত্র চাঁদা না দেওয়ায় তাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শামীম ড্রাইভার বলেন, “চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুকুরটি ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হয়েছে, তার দলিল আছে। ওয়াসিমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমার কোনো হাত নেই।”
এসআই জাহিদ বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি, কাউকে ঠিকমতো চিনিও না। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।”

For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.