Bangla
3 years ago

নীলক্ষেতে সবার প্রিয় শাহজাহান চাচার পুরাতন বইয়ের দোকান

Published :

Updated :

নীলক্ষেতজুড়ে কেবলই সাহিত্যের বই বিক্রি করে এমন দোকানের সংখ্যা কমেছে, চারপাশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক ও চাকরির বই বিক্রির দোকান সংখ্যায় বেশি। সে সাথে কমেছে কেবল পুরনো বই বেচা-কেনার দোকানও। এর মাঝে ব্যতিক্রম শাহজাহান সেবা বুক শপ। এই দোকানে এখনো শুধু পুরনো বই কেনা-বেচা হয়। 

যেভাবে পৌঁছাবেন পুরনো বইয়ের রাজ্যে 

৪২/৬,৭,বই বাজার গলি, ইসলামিয়া মার্কেট, নীলক্ষেত; এই ঠিকানায় এখনও ঐতিহ্যের ধারক হয়ে টিকে আছে শাহজাহান সেবা বুক শপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গেলে ইসলামিয়া মার্কেট (মূল নীলক্ষেত বইয়ের বাজার) পেরিয়ে রাফিন প্লাজার গলি দিয়ে ডান দিকে ঢুকে গেলে শেষ প্রান্তে বই বাজার গলি। সে গলির শেষ দোকানই শাহজাহান সেবা বুক শপ। 

মিরপুর রোড দিয়ে এলে নিউ মার্কেট ২ নাম্বার গেটের ফুটওভার ব্রিজের সামনে থামতে হবে। ব্রিজের পূর্ব পাশের সুবিশাল দালানটি রাফিন প্লাজা। তার ঠিক দক্ষিণ পাশের গলিটিই রাফিন প্লাজা গলি নামে পরিচিত। কোনো গলির মাথা থেকেই দোকানটি দেখা যায় না। তাই গলির ভিতরে ঢুকতে হবে। 

স্বত্তাধিকারী ও নামকরণের কারণ 

দোকানের সামনে যেতেই আপনি বইয়ের সাগরের মাঝে সাদা চুল-দাঁড়ির যে ভদ্রলোককে দেখবেন তিনি শাহজাহান মিঞা। নিয়মিত তরুণ ক্রেতাদের মাঝে শাহজাহান চাচা নামেই অধিক পরিচিত। তিনি কেবল বই কেনা-বেচাই করেন তা নয়, বাংলা সাহিত্যের পাঠকও তিনি। দোকানে ক্রেতা না থাকলে তিনি বই পড়েই সময় কাটান। 

এই দোকানের স্বত্তাধিকারী শাহজাহান মিঞা প্রায় চার দশক ধরে বই বেচা-কেনার পেশায় আছেন। সে সময়ে সেবা প্রকাশনী ছিল দেশের অন্যতম সেরা প্রকাশনী। এই প্রকাশনীর মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, বিভিন্ন জনপ্রিয় বিদেশি বইয়ের অনুবাদ দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। সে কারণেই দোকানের নাম রাখেন ‘শাহজাহান সেবা বুক শপ’। 

যে কারণে যাবেন 

আপনি যদি বই সংগ্রাহক হন, ভিন্টেজ বই নিজের সংগ্রহে রাখতে চান তাহলে এই বুক শপে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। পুরনো অনেক অরিজিনাল বই যেগুলো এখন আর ছাপানো হয় না, সেসব বই পেতে পারেন এখানে। মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দার ভক্ত হলেও যেতে পারেন এখানে। সেবা প্রকাশানীর প্রচুর বই পাবেন। 

এই দোকানের মোট বইয়ের সংখ্যা কত সেটা বিক্রেতা নিজেও সঠিক ভাবে জানেন না। পুরো দোকান জুড়েই কেবল বই আর বই। পা ফেলার জায়গাটুকুও নেই। 

ইংরেজি ভাষার বইয়ের সংখ্যা অনেক কম। দোকানের পুরোটা জুড়েই বাংলা ভাষার বই। হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, ইমদাদুল হক মিলন, কাজী আনোয়ার হোসেন, জাফর ইকবাল, মীর মশাররফ হোসেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সমরেশ মজুমদার, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কল্লোল লাহিড়ী, তারেক শামসুর রহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ প্রথিতযশা সকল বাংলা সাহিত্যের লেখকদের বই পাবেন এখানে। বিখ্যাত বিদেশি বইয়ের বাংলা অনুবাদও আছে প্রচুর। 

আপনার পুরনো বই বিক্রি করার জন্যও যেতে পারেন এই বুক শপে। বইয়ের মানের উপর নির্ভর করে মূল্য নির্ধারিত হয়। সাধারণত প্রচ্ছদ মূল্যের ৩০%-৪০% দামে বই বিক্রি করতে পারবেন এখানে। 

যা যা মাথায় রাখবেন

দোকানটির সামনে জায়গা খুবই কম। তাই খুব আরামে বই কিনতে পারবেন না এখানে। বিক্রেতা সবসময় আপনাকে বই খুঁজে দিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে আপনার কাঙ্খিত বই। তবে তিনি আপনাকে বিভিন্ন বইয়ের পরামর্শ দিবেন।

পুরনো বই হলেও এখানে বইয়ের দাম একদম কম নয়। সাধারণত প্রচ্ছদ মূল্যের ৫০%-৬০% মূল্যে আপনাকে বই কিনতে হবে এখানে। 

বেশ পুরনো কিছু ক্ল্যাসিক বইয়ের ক্ষেত্রে প্রচ্ছদ মূল্য দিয়ে দাম নির্ধারণ করেন না বিক্রেতা। সেসব বইয়ের দাম প্রচ্ছদ মূল্যকে ছাড়িয়ে যায়। তবে, দামাদামি করতে পারলে আরো কমেও পেতে পারেন।  

বইগুলো পুরনো হওয়ায় কিছু বইয়ের অবস্থা ভালো থাকে না। সেগুলোকে কেনার পর আপনাকে বাইন্ডিং করতে হবে। তাই বই কেনার আগে ভালো করে বইয়ের অবস্থা দেখে নেবেন। 

নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকা বেশিরভাগ সময় লোকে লোকারণ্য থাকে। এ ব্যাপারটিও মাথায় রাখবেন। মঙ্গলবার নীলক্ষেতের বাকি দোকানগুলোর মতো এটিও বন্ধ থাকে। 

mizanur2351@gmail.com

Share this news