Bangla
a month ago

 অদ্ভুত সাত গিনেস বিশ্বরেকর্ড কথন

Published :

Updated :

গিনেস বিশ্বরেকর্ডের কথা ভাবলে মাথায় আসে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা বা খাটো মানুষ, এক মিনিটে অনেক বড় কিছু করার রেকর্ড কিংবা সবচেয়ে লম্বা নখ বা চুলের রেকর্ডের মতো চমকপ্রদ কোনোকিছুর কথা। কিন্তু এসবের বাইরেও গিনেস বুকে রয়েছে অনেক অদ্ভুত সব রেকর্ড।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন গিনেস বুকে দ্বিতীয়বারের মতো নিজের নাম লিখিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বরিশালের নুসরাত জাহান নিপা এক মিনিটে চপস্টিক দিয়ে ২৭টি ভাত খেয়ে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। আগের বার তিনি ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে গিনেস বুকে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন।

মানুষ এই রেকর্ডগুলোকে হাস্যরসাত্মকভাবে নিলেও গিনেস বুকে এমন বহু অদ্ভুত রেকর্ড আছে। এমন অদ্ভুত সাতটি গিনেস বিশ্বরেকর্ড নিয়ে জেনে নেওয়া যাক চলুন।

মুখে শামুক রেখে বিশ্বরেকর্ড

কেউই শামুকের মতো আঠালো ও পিচ্ছিল বস্তু তার মুখের উপর রাখতে চাইবে না। মুখে তো নয়ই বরং শামুক ধরতেও অনেকে নাক সিটকায়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ রাজ্যের ১১ বছর বয়সী ফিন কেলার তার জন্মদিনে ১০ সেকেন্ড মুখের ওপর ৩৭টি শামুক রেখেছিল। এর মাধ্যমে ফিন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শামুক মুখের ওপরে রাখার মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড অর্জন করে।

সর্বোচ্চ ফ্লেশ টানেলের অধিকারী

মুখ ছিদ্র করে ফ্লেশ টানেল বানানোর ব্যাপার তো এমনিতেই মানুষের কাছে অস্বাভাবিক লাগে। কিন্তু কেউ কেউ শখের বশে নিজেদের গাল, কান বা নাক ছিদ্র করে থাকে।

২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের জেমস গস ১৭টি ফ্লেশ টানেল করে গিনেস বুকে নিজের আগের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। এর আগে তিনি ১৫টি ফ্লেশ টানেলের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।

মাথা দিয়ে টয়লেট সিট ভাঙ্গা

হাস্যকর হলেও সত্য যে গিনেস বুকে মাথা দিয়ে সর্বোচ্চ টয়লেট সিট ভাঙ্গার রেকর্ডধারীও রয়েছে। এখন চিন্তা আসতে পারে যে একজন স্বাভাবিক মানুষ মাথা দিয়ে টয়লেট সিট ভাঙতে যাবেই বা কেন।

কিন্তু গিনেস বুকে নিজের নাম লেখানোর জন্যে মানুষ কতকিছুই না করে। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেভিন শেলি জার্মানিতে গিনেসের সেটে এক মিনিটে ৪৬টি কাঠের টয়লেট সিট মাথা দিয়ে ভেঙ্গে বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন। এতে কিছুটা রক্তপাত হলেও মাথা অক্ষতই ছিল তার।

নাক দিয়ে টাইপ করে গিনেসে নাম

হাত দিয়ে দ্রুততম সময়ে টাইপ করার বিশ্বরেকর্ড যেমন আছে, ঠিক তেমনি নাক দিয়ে টাইপের রেকর্ডও আছে।

২০১৭ সালে ভারতের নয়াদিল্লীর দাবিন্দার সিং নাক দিয়ে টাইপ করে ৪০.১৯ সেকেন্ডের মধ্যে ১০৩টি বর্ণ লিখে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন। দাবিন্দারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিখতে হয়েছিল, ‘Guinness world records have challenged me to type this sentence using my nose in the fastest time.

 একই সময়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের দাঁত ব্রাশ

অধিকাংশ মানুষ ভাবে কত বিশেষ কিছু করেই না গিনেস বুকে নিজের নাম লেখানো লাগে। কিন্তু দাঁত ব্রাশের মতো সাধারণ কাজও গিনেস বুকে জায়গা করে নেওয়ার নজির রয়েছে।

২০১৯ সালে একই সময়ে একই স্থানে একসাথে ২৬ হাজার ৩৮২ জন মানুষ দাঁত ব্রাশ করে বিশ্বরেকর্ড অর্জন করে। ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে কালিঙ্গা সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, জাতীয় জনস্বাস্থ্য দন্তচিকিৎসা সমিতি (আইপিএইচডি) ও কলগেট-পামওলিভ লিমিটেড যৌথভাবে এই বিশ্বরেকর্ড করেছে।

ঢেঁকুর দিয়ে গিনেস বুকে স্থান

ঢেঁকুরের মতো তুচ্ছ ব্যাপার নিয়েও গিনেসের মাথাব্যথা আছে। ঢেকুরের বিশ্বরেকর্ডের মধ্যেও তিনটি ক্যাটাগরি আছে। সবচেয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঢেঁকুর এবং সবচেয়ে জোরে আওয়াজের ঢেকুরের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক ক্যাটাগরি রয়েছে।

সাধারণত মানুষ কয়েক সেকেন্ড বা মিলিসেকেন্ডের ঢেঁকুর দিয়ে থাকে। কিন্তু ইতালির মিশেল ফরজিওন ওরফে রুট মিস্ট্রিয়ো ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড ৫৭ মিলিসেকেন্ডের ঢেঁকুর দিয়ে সবাইকে প্রমাণ করেছেন যে ঢেঁকুর এক মিনিট ধরেও হতে পারে। ২০০৯ সালে ইতালির রেজিওলোতে অনুষ্ঠিত ১৩তম হার্ড রক বিয়ার ফেস্টিভ্যালে ‘রুট্টসাউন্ড’ প্রতিযোগিতায় মিশেল সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ঢেঁকুর দিয়ে বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন।

পুরুষ ক্যাটাগরিতে অস্ট্রেলিয়ার নেভিল শার্প ২০২১ সালে ১১২.৪ ডেসিবেল আওয়াজের ঢেঁকুর দিয়ে গিনেস বুকে নিজের নাম লিখিয়েছেন।

নেভিল ছয় বছর বয়সে তার বড় বোনের কাছ থেকে ঢেঁকুর দেওয়া শিখেছিলেন। এর ৪৫ বছর পর তিনি ঢেঁকুর দিয়ে যে গিনেস বিশ্বরেকর্ডধারী হওয়া যায় সে সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর পাঁচ বছর ধরে স্ত্রীর সহযোগিতায় তিনি জোরে আওয়াজ করে ঢেঁকুর দেওয়ায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

নারী ক্যাটাগরিতে এই বিশ্বরেকর্ডধারী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের কিম্বারলি উইন্টার। ২০২৩ সালে ১০৭.৩ ডেসিবেল আওয়াজের ঢেঁকুর দিয়ে তিনি সবচেয়ে জোরে আওয়াজের ঢেঁকুরের বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন।

কিম্বারলি টিকটকে কিমিকোলা নামে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে বা কিছুই না খেয়ে জোরে ঢেঁকুর দিয়ে টিকটকে তিনি সকলের নজর কাড়েন। তার মতে কোক, মদ, ঝাল খাবার, কফি আবার অনেক সময় শুধু পানি পানও তাকে জোরে ঢেঁকুর দিতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে আজব খাদ্যাভ্যাস

মানুষ মূলত যা খেয়ে হজম করতে পারে এবং যা সহজে চিবিয়ে খেতে পারে এমন খাবার গ্রহণ করে থাকে। কোনো মানুষ সারা জীবন ধরে লোহা বা কাঁচের জিনিস গ্রহণ করে দিব্যি সুস্থভাবে বেঁচে আছে এমনটি সচরাচর দেখা যায় না। তবে গিনেস বিশ্বরেকর্ড ঘাটলে এই ধারণায় কিঞ্চিত পরিবর্তন আসতে পারে।

কারণ ফ্রান্সের মিশেল লতিতো ওরফে মসিয়ে মঞ্জটু তার পুরো জীবন মেটালিক ও কাঁচের বস্তু খেয়েই স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করেছেন। ১৯৫৯ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে ডাক্তার এক্স-রে করে তার পাকস্থলি পরীক্ষা করে জানান মিশেলের প্রতিদিন অন্তত ৯০০ গ্রাম মেটাল গ্রহণের ক্ষমতা আছে।

১৯৬৬ সাল থেকে তার খাদ্যে ছিল ১৮টি সাইকেল, ১৫টি সুপারমার্কেট ট্রলি, সাতটি টিভি সেট, ছয়টি ঝাড়বাতি, দুটো খাট, এক জোড়া স্কি, একটি কম ক্যালরির সেসনা বিমান এবং একটি কম্পিউটার। ১৯৯৭ সালের অক্টোবরের আগ পর্যন্ত তিনি নয় টনের কাছাকাছি পরিমাণ মেটাল গ্রহণ করেছিলেন। 

অস্বাভাবিক হলেও সত্যি যে তিনি সিদ্ধ ডিম ও কলা খেলে অসুস্থবোধ করতেন। ২০০৭ সালে তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

[email protected]

Share this news