Bangla
2 years ago

প্রমোশন চাওয়া নাকি চাকরি ছাড়া - কখন, কেন, কীভাবে?

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

Published :

Updated :

স্থিতিশীল উপার্জনের মূল উৎস চাকরি। তবে সেই চাকরিতে যদি পদোন্নতি, ক্যারিয়ার গ্রোথ, মানসিক শান্তি, কাজে আনন্দ ও আগ্রহ না থাকে তো সেটি হাতে পায়ে বেড়ি হয়ে দাঁড়ায়। 

অনেকদিন চাকরি করে যোগ্য হওয়ার সত্ত্বেও যদি প্রমোশন না হয় তো কি করবেন? প্রমোশন চাইবেন নাকি চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করবেন নাকি অন্য চাকরি খুঁজবেন? স্থিতিশীল উপার্জনের উৎস ছেড়ে এসে নিজের নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা বা অন্য চাকরি শুরু থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সহজ কাজ না। 

আপনি যখন একটি চাকরি একই পদে লম্বা সময় ধরে করছেন তখন আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ হলো পদোন্নতি। কিন্তু কখন বুঝবেন আপনি পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য? সাধারণ ভাবে খেয়াল করলে যখন দেখবেন আপনি একই পদে অনেক দিন হলো আছেন এবং আপনার ওপর থাকা দায়িত্বগুলো ছাড়াও অন্য কাজ গুলো অনায়াসে আপনি নিয়মিত করছেন বা আপনাকে করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

তবে এটাও মনে রাখতে হবে প্রমোশন চাওয়ার কোনো সঠিক সময় নেই। যদি আপনার বাৎসরিক পারফরমেন্স রিভিউ অনেক ভালো থাকে তো আপনি প্রমোশনের জন্য কথা বলতেই পারেন। তবে সেটা অবশ্যই সঠিক সময়ে এবং কোম্পানির সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে।

যদি আপনি প্রমোশন চাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হোন তো অবশ্যই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই এ বিষয়ে কথা বলা উচিত। সর্বপ্রথম আপনি আপনার চাকরি ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানুন। আপনার পরবর্তী দায়িত্ব কী হতে পারে, প্রতিষ্ঠান আপনার কাছে কী আশা করে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। আপনার কাঙ্ক্ষিত পদে যে বর্তমানে কাজ করছে তার সাথে কথা বলুন, তার কাজ সম্পর্কে জানুন, কী ধরনের টেকনিক্যাল স্কিল কাজের জন্য প্রয়োজন তা জানুন ও আয়ত্ত করুন। 

প্রমোশন চাইতে হলে অবশ্যই কীভাবে চাইবেন, কী কী বিষয়ের ওপর ফোকাস করে নিজেকে তুলে ধরবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা উচিত। কখনোই এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না যেটাতে মনে হয় আপনি নিজের যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নন। আপনার দূর্বলতাগুলো জানুন এবং চেষ্টা করুন সেগুলো কাটিয়ে উঠতে। যেমন, যদি কোনো টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় যা আপনি জানেন না, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে জানান আপনি কাজ করছেন সেটি শিখতে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে পারদর্শী হবেন সেটা তুলে ধরুন।

যখন আপনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবেন প্রমোশন চাওয়ার জন্য তখন প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলুন। সবচাইতে ভালো পন্থা হলো সরাসরি কথা বলা। এছাড়াও ই-মেইলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। 

সরাসরি কথা বললে মিটিংয়ে আপনার এতদিনের অর্জনগুলো জানান, কেন আপনি প্রমোশন পাওয়ার উপযুক্ত তা ব্যাখ্যা করুন, নিজের যোগ্যতা উপস্থাপন করুন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে আপনার মাধ্যমে উপকৃত হবে তা জানান। আলোচনা নেতিবাচক হলে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। 

তবে প্রমোশন না চেয়ে আপনি যদি চিন্তা করেন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার তবে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। 

চাকরির সুযোগ-সুবিধা, স্থিতিশীলতা - এসকল বিষয় মাথায় রাখুন। চাকরি ছাড়ার আগে চাকরি ছাড়ার পরবর্তীতে অবসর ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইত্যাদি কী কী সুবিধা আপনি পাবেন তা জেনে নিন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব অর্থ গুছিয়ে নিন যেন চাকরি ছাড়ার পর অর্থাভাবে পড়তে না হয়। অবশ্যই পরবর্তী চাকরি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই বর্তমান চাকরি ছাড়া উচিত। 

এছাড়াও চাকরি ছেড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে চাকরি থাকা অবস্থাতেই পরিকল্পনা শুরু করুন। ব্যবসার মূলধনও চাকরিতে থাকেই সঞ্চয় করুন। 

চাকরি ছেড়ে দিবেন মানে এটা নয় যে সকলের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে আসবেন। পূর্ববর্তী চাকরিক্ষেত্রের সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। চাকরি থেকে যে পরিচিতি মন্ডল আপনার তৈরি হয়েছে তারাই হয়তো আপনাকে ব্যবসা বা নতুন চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তাড়াহুড়ো করবেন না। অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন। একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পূর্বে কিছুটা অর্থ সঞ্চয় করুন বিপদের কথা মাথায় রেখে। এতে করে মানসিক চাপ কমবে। ধৈর্য ধরুন। ব্যবসায়িক সফলতা রাতারাতি আসে না। পরিশ্রমের সাথে লেগে থাকুন। 

firuz.nawer@gmail.com

Share this news