Bangla
15 days ago

রন্ধনশালা থেকে রণাঙ্গন: যে নীরব বিপ্লবের ঠাঁই হয়নি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে

Published :

Updated :

তখন মধ্যরাত, যেন এক পাহাড় সমান নীরবতা ছেয়ে আছে গোটা গ্রামে। মাঝে মাঝে আকাশ যেন নিজেই ক্লান্ত হয়ে ফেলছে নিঃশ্বাস। দূর থেকে ভেসে আসে এক-আধতা বুটের শব্দ। রান্নাঘরের টিমটিমে লণ্ঠনটা কাঁপছে থরথর করে, আর তার আলোয় প্রতিটি ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, ছুটছে এদিক-ওদিক। মাটির দাওয়ায় বসে আছে একজন নির্লিপ্ত নারী। তিনি কে? তিনি কি একজন গৃহবধূ? একজন আশ্রয়দাতা? নাকি ইতিহাসের এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার মাঝে লুকিয়ে আছে রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের বারুদ?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সাধারণত রাইফেল হাতে পুরুষের ছবি দিয়ে শুরু হয়। অথচ যুদ্ধক্ষেত্রের বাহির ও ভেতরে অসংখ্য নারীও ছিলেন; যারা কখনও অস্ত্র হাতে, কখনও শরীরকে ঢাল করে, কখনও তথ্য বহন করে, কখনও রান্নার হাঁড়ি চড়িয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

যে নিঃশব্দ প্রতিরোধের জ্যামিতি গৃহকোণে রচিত হয়েছিল, যে অসীম ধৃতির মহাকাব্য রন্ধনশালা থেকে রণক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের ত্যাগের ভারে আকাশের নীলিমাও যেন নত হয়েছিল। তারামন বিবি, কাঁকন বিবি, গীতা মজুমদার, ড. লাইলী পারভীন, গীতা কর, আলেয়া বেগম, শিরিন বানু মিতিল, রওশন আরা, আশালতা ছিল এমনই কিছু নাম। যারা দেবী চণ্ডীরূপে রণক্ষেত্রে শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করতে দ্বিধা করেননি। ঘুরে আসা যাক তাদের মহাকাব্যে।

একাত্তরের নারীসত্তা

অক্টোবর ১৯৭১;  একপাশে খালিয়াভাঙ্গা অন্যপাশে ভেড়ামারি খাল। এক পাশের গ্রামে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প, অন্যপাশে শত্রুপক্ষের। মাঝখানে একটা খাল। সারা শরীরে কাদা আর পাগলের বেশ ধরে সে ক্যাম্পে গেলেন এক নারী। সামনে তখন হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। সারা শরীরে কাদা, মাথায় চুলের জট, কাপড় ছেঁড়া, হাত পা যেন অনেকখানি বিকলাঙ্গ; নারীটিকে দেখে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা অশ্লীল ভাবে গালি দিচ্ছিলো, জবাবে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন তিনিও।

এদিকে আর্মিরা ভাবলো পাগলের কতো রকমফের। নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টায় লিপ্ত হল তারা। এই ফাঁকে সেই পাগল মোটামুটি অনুমান করে নিলো ক্যাম্পের সমস্ত জায়গা। কোন পাশে হামলা করলে সবচেয়ে ভয়ংকর হবে, কোন পয়েন্ট দিয়ে হামলা করতে হবে এসব মনে রেখে বেরোতে গিয়ে কোন বাধার সম্মুখীন হলেন না তিনি।

পাকিস্তানিদের ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে সাঁতরে খাল পেরিয়ে অপর পাড়ে উঠে তিনি মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে এলেন। গোপন খবরের অপেক্ষায় তখন মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানিদের ক্যাম্পের অবস্থান, মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে বললেন খোলাখুলিভাবে। তার নির্ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে নদীর অপর পাড়ে পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে আক্রমণ হল পরদিনই। এবং সফল হল অভিযান।

পাগলের বেশে এই নারীটি আর কেউ নন, তিনি তারাবানু। আমাদের তারামন বিবি (বীরপ্রতীক)।

এমনই আরও একজন নারী যিনি স্বামীর খোঁজে ছুটছিলেন এ ক্যাম্প থেকে ও ক্যাম্পে। এর মধ্যে মুক্তিবাহিনীর চর সন্দেহে পাকিস্তানীরা তাকে আটক করে। মুক্তি বাহিনীর গোপন তথ্য উদ্ধারের নামে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না। গরম লোহার শিকের ছ্যাঁক দিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। কিছুই না জানার পরিণামে অত্যাচার দ্বিগুণ হয়। টেংরা ক্যাম্পে টানা সাত দিন ধরে চলে ভয়ংকর নির্যাতন।      

পাকিস্তানীদের পক্ষে কাজ করার শর্তে অবশেষে তিনি মুক্তি পান। তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়  একটা কাগজ। ধরা পড়লে এই কাগজ দেখাতে হবে। কিন্তু মুক্তিবাহিনী যেন দেখতে না পায়। এই কাগজ হল পাকিস্তানীদের পক্ষে কাজ করার দলিল। তাকে কাজ দেয়া হয় গ্রামে ভিক্ষুক সেজে ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য সংগ্রহ করার।

হারিয়েছেন বোন, বোনের স্বামীকেও। তখন প্রতিশোধের আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলছে তার মনে। একদিন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে জীবনের সব কথা খুলে বলেন। প্রসঙ্গত, এর মধ্যে আগের স্বামী তার সংসারে ফিরে আসে। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় তার ওপর নির্যাতনের কথা জানতে পেরে বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়।

এক পৃথিবী সমান শোক বুকে চেপে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দুঃসাহসী এক চর হয়ে উঠলেন। পাকিস্তানীদের ক্যাম্পে গিয়ে তিনি দিতেন মুক্তিবাহিনীর ভুল তথ্য, আর হানাদারদের যাবতীয় গোপন তথ্য পৌঁছে দিতেন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

কলাগাছের ভেলায় করে গোলাবারুদ বহন করে ব্রিজের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পৌঁছে দেন । ওই বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করা হয় জার্ডিয়া ব্রিজ। এই অপারেশন হয়েছিল গভীর রাতে।

একাই মাইন, অস্ত্র আর গোলাবারুদ নিয়ে কলাগাছের ভেলায় চেপে ব্রিজের কাছে যিনি গিয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন, আমাদের কাঁকন হেনইঞ্চিতা (কাঁকন বিবি, বীরপ্রতীক)। আমাদের জোয়ান অব আর্ক—যিনি ধর্মের বেড়া ডিঙিয়ে শুধু দেশ এবং মাতৃভূমির ডাকে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন।

টেংরা টিলা যুদ্ধে উরুতে গুলিবিদ্ধ হন কাঁকন। কেবল টেংরা টিলাই নয় বাংলাবাজার, দুরবিন টিলা, আঁধার টিলা সহ মোট নয়টি যুদ্ধে সরাসরি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন কাঁকন। মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে আমবাড়ি যুদ্ধে ফের গুলিবিদ্ধ হন। 

কেবল জার্ডিয়া ব্রিজই নয় সুনামগঞ্জে দুঃসাহসী সব যুদ্ধে পরোক্ষভাবে তথ্য দিয়ে শামিল ছিলেন কাঁকন।

বসরাই টেংরা টিলা যুদ্ধ, বেটিরগাঁও নুরপুরের যুদ্ধ, টেবলাইয়ের যুদ্ধ, মহব্বতপুরের যুদ্ধ, সিলাইরপাড়ের যুদ্ধসহ গোটা বিশেক যুদ্ধে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে অংশ নেন এই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিবাহিনীর ২০টির বেশি সম্মুখযুদ্ধে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার কারণেই মুক্তিবাহিনী হানাদারদের নির্ভুল তথ্য পেয়েছিল। বিনা ঝুঁকিতে অস্ত্র গোলাবারুদের সরবরাহ পেয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানিদের গোলাবারুদ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও কোনও আশ্রয় জোটেনি তার। স্বাধীন দেশেও পেটের ক্ষুধা নিবারণে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতে হয়েছে তাকে। মুক্তিযুদ্ধে তার অসীম সাহসিকতার কথা মনে রাখেনি কৃতঘ্ন জাতি।  

মানুষ ভালোবেসে তাকে ডাকতো মুক্তিবেটি বলে। কোনও কিছুর প্রত্যাশায় যুদ্ধে যাননি তিনি।

সম্মুখযুদ্ধে বরিশালের করুণা বেগম ছিলেন অকুতোভয় মুক্তিসেনা। পিরোজপুরের ভাগিরথীর আত্মদান মনে রাখেনি ইতিহাস। নাজিয়া ওসমান চৌধুরী কুষ্টিয়া রণাঙ্গনে ছিলেন অনন্য। পুরুষের পোশাকে যুদ্ধে পাকিস্তানিদের প্রতিরোধ করেছিলেন শিরিন বানু মিতিল, আলেয়া বেগম। 

এগুলো কেবল সাহসিকতা ছিল না, ছিল নারীর এক অপ্রকাশিত সত্তার মহাকাব্যিক উন্মোচন।  

অন্নপূর্ণা থেকে চন্ডী: মুক্তি সংগ্রামে নারীশক্তির মহাকাব্যিক উত্থান

গোটা যুদ্ধাবস্থা জূড়েই রণাঙ্গনের এসকল নারীদের নীরব শক্তির নেপথ্যে কিছু মায়েরাও ছিল, যেমন কর্নেল তাহেরের মা বেগম আশরাফুন্নেসা, যার নয় সন্তানই (সাত ছেলে, দুই মেয়ে) ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি কেবল সন্তানকে যুদ্ধে পাঠাননি, বরং নিজে হয়ে উঠেছিলেন গেরিলা বাহিনীর আশ্রয় এবং নৈতিকতার উৎস।

তারই এক সন্তান ক্যাপ্টেন ডাক্তার সিতারা বেগম। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা ধরে দিনের পর দিন হাসপাতালে ডাক্তার সিতারার কাজ ছিল অসাধ্য সাধন করে যাওয়া।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আসা গুলিবিদ্ধ, স্প্লিন্টারের আঘাতে ঝাঁঝরা, গুরুতর জখম মুক্তিযোদ্ধাদের সারিয়ে তুলতে হতো খুব সামান্য আর সাধারণ ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে।

সিতারা বেগমকে কেবল ওষুধ সংগ্রহের জন্য নিয়মিত আগরতলা যেতে হতো। তার রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিপুণ পরিচালনার ফলে বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধরত ভারতীয় সেনাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে তার অবর্ণনীয় সেবা, আহতদের মধ্যে জীবন ফিরিয়ে আনার নিরন্তর চেষ্টা, তাকে কেবল একজন চিকিৎসক নয়, বরং শাপমোচনের দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যখন চারদিকে মৃত্যু নৃত্য করে, তখন সিতারা বেগম হয়ে ওঠেন প্রাণের রক্ষাকবচ।

আবার প্রশিক্ষণ সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন কানন দেবী, উপাসনা রায়, সুধারানী কর, পূর্ণিমা রানী দাস ও নিপা রানী মুজমদারের মতো আরও অনেকে।  

প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রীতি রানী দাস পুরকায়স্থ, শুক্লা রানী দে, হেমলতা দেব ছাড়াও বহু নারী  উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। ছায়ানট সভাপতি সনজিদা খাতুন কলকাতায় বসে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে গানের টিম পাঠিয়ে উদ্দীপ্ত করতেন যোদ্ধাদের। 

সেলিনা বানু সশরীরে উপস্থিত হয়ে যোদ্ধাদের মনোবল অটুট রাখতে এবং শরণার্থীদের মধ্যে প্রানচাঞ্চল্য ফেরাতে তৎপর ছিলেন। এসকল তথ্য ক’জন আর এখন জানে!

অক্ষরবৃত্তহীন ত্যাগের ভারে নত হওয়া ইতিহাসের নারীরা

বুলেট আর বুটের বাইরে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ লড়েছেন, তাদের অবদানও নেহাত কম নয়। জাহানারা ইমামের মতো এমনই কিছু মহিয়সী একদা এ ভূ-খন্ডে জন্মেছিল, যারা কলমকে অস্ত্রের চেয়েও তীক্ষ্ণ করে তুলেছিলেন।

তার লেখা দিনলিপি, যা পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়, তা কেবলই স্মৃতিচারণ নয়; এটি ছিল বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপে অটল দাঁড়িয়ে থাকা দূর্ভাগা জাতির সবথেকে গৌরবময় অথচ নিষ্ঠুর সাক্ষী।

একটি দেশের জন্য কী করেননি তিনি! সন্তানকে বিলিয়ে দিয়েছেন মাতৃভূমির জন্য। হারিয়েছেন জীবনসঙ্গীকেও। সারাজীবন বারবার প্রতিকূলতার মুখে পড়েও তিনি পাহাড়ের মতো অটল।

নারী, যুদ্ধ এবং অস্তিত্বের সংজ্ঞার্থ

আমাদের ইতিহাসের পাতায় নারীদের উপস্থিতি এতদিন কেবল অনুচ্চারিত রেখাপাতের মতো ছিল। অথচ তাদের গল্পের ভার এমন যে, সমগ্র মুক্তিযুদ্ধের মানচিত্রটাই পুনর্লিখনের দাবি রাখে। বাংলার নারী আর কোনও সাধারণ নারী হননি। তাদের উপর নেমে আসা অমানবিক নির্যাতন ছিল যেন সভ্যতার চীরহরণের এক নব্য দ্রৌপদী-প্রকরণ। কিন্তু সেই লাঞ্ছনা, তাদের অদম্য অস্তিত্বের আগুন নিভিয়ে দিতে পারেনি; বরং মুক্তির জন্য করেছে উজ্জীবিত।

নিপীড়ন, ধর্ষণ, লাঞ্ছনা ও সহিংসতা সেসব তো ছিলই, তার পাশাপাশি তারা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন, লড়াই করেছেন, দেশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, রক্ষা করেছেন, খাদ্যের যোগান দিয়েছেন, যুদ্ধের বার্তা পৌঁছেছেন।  

এইসব নারী কেবল অতীত নন, তারা আমাদের বর্তমান অস্তিত্বের মেরুদণ্ড। তাদের মহত্ত্ব কেবল মঞ্চে উঠে একবাক্যে বলে ফেলার জন্য নয়; তাদের জীবন আমাদের শেখায়, দুই লক্ষ কেবলই একটি সংখ্যা নয়। স্বাধীনতা কোনও একক পুরুষের অর্জন নয়, নারীরও।

এই মহাকালিক বিবর্তনে নারীসত্তার সেই অলিখিত ভূমিকাই আমাদের জাতীয় চেতনার গভীরতম-উৎসমূল। যখন বাংলার প্রতিটি রান্নাঘর, প্রতিটি দোরগোড়া, পরিণত হয়েছিল এক-একটি সামরিক হেডকোয়ার্টারে আর নারী ছিল তার নিঃশব্দ, কিন্তু অবিচল জেনারেল। এই গল্প কোনও কামান বা ট্যাঙ্কের গর্জনের নয়। এই গল্প হল অকথিত যুদ্ধদিনের; বাংলার প্রান্তিক বাঘিনীদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদনের। 

সাকির হোসেন ইফাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়নরত  sakerefaz01@gmail.com

Share this news