ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের কারিগরি সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ যে চিঠি দিয়েছে, সেটি কার্যকর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এ ধরনের চিঠিতে তেমন কোনো ফল হবে না। নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত শনিবার জাতিসংঘের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে জাতিসংঘকে যেন নির্বাচনি সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বরাবর চিঠিটি পাঠান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।
চিঠিতে বলা হয়, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘ ও ইউএনডিপিকে নির্বাচনি সহায়তা স্থগিত রাখতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় সংলাপ ও সমঝোতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের নীতিগুলো বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
‘বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনি সহযোগিতা ও জাতিসংঘ সনদের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মৌলিক অধিকারের নীতি লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ’ শীর্ষক এই চিঠিতে বলা হয়, ইউএনডিপির ব্যালট প্রকল্পসহ প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এমন একটি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, যা না অন্তর্ভুক্তিমূলক, না বিশ্বাসযোগ্য। এই সম্পৃক্ততা জাতিসংঘের মূলনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
তবে আওয়ামী লীগের এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। দলটির বিরুদ্ধে টানা দেড় দশক ধরে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়।











