শুধুমাত্র রণাঙ্গনের যোদ্ধারাই পাবেন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

Published :
Updated :

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক স্বীকৃতি ও সংজ্ঞা নির্ধারণে নতুন এক অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি নতুন অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যার লক্ষ্য মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ ও সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া।
এই খসড়া অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে সরাসরি অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন এমন ব্যক্তিরাই কেবল ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে বা বিদেশে থেকে জনমত গঠন, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, বর্তমানে প্রচলিত আইনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আট ধরনের ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না করা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। তবে নতুন খসড়া অধ্যাদেশে এ সংজ্ঞায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন আইনের মূল দিকসমূহ:
রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা: কেবলমাত্র ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা ব্যক্তিরাই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃত হবেন।
মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী: জনমত গঠন, কূটনৈতিক সহায়তা, বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রচার, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী, চিকিৎসা সহায়তাকারী ব্যক্তিদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনর্বিবেচনা: পূর্বে স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ যদি নতুন সংজ্ঞার আওতায় না পড়েন, তাহলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
বয়স সংক্রান্ত নীতি: মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ১২ বছর ৬ মাস। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আইন কার্যকর হবে।
ভুল তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সুযোগ: যারা ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সুবিধা নিয়েছেন, তাদের ২৬ মার্চের মধ্যে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বর্তমান আইনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায় উল্লেখ ছিল, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।’ নতুন খসড়ায় এই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
এটি অনুমোদনের জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদিত হলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সভায় চূড়ান্ত করে কার্যকর করা হবে।

For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.